ব্রেন স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৪ মিনিট

সাধারণত ব্রেন স্ট্রোক কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই ঘটে। নীরবে আঘাত হানে এই প্রাণঘাতী সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এ কারণেই চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর প্রথম চার মিনিট সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অল্প সময়ই নির্ধারণ করে দেয় রোগী বাঁচবেন নাকি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোক হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। এই সময়ে এক সেকেন্ড দেরি হলেই মস্তিষ্কের ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ব্রেন স্ট্রোক কেন হয়: কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে স্ট্রোক হতে পারে। রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে যে স্ট্রোক হয়, তাকে ইস্কেমিক স্ট্রোক বলা হয়। আবার হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও স্ট্রোক হতে পারে, যাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলা হয়।
মস্তিষ্ক অক্সিজেন ছাড়া এক মুহূর্তও টিকে থাকতে পারে না। রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে অক্সিজেন সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে শরীরের নড়াচড়া, কথা বলা এমনকি চিন্তাশক্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কেন প্রথম চার মিনিট এত গুরুত্বপূর্ণ:
স্ট্রোকের সময় প্রতি মিনিটে মস্তিষ্কের লক্ষ লক্ষ কোষ নষ্ট হতে থাকে। তবে প্রথম চার মিনিটে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ কারণেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সময়টিকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা যেমন বাড়ে, তেমনি সুস্থভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগও অনেক বেশি থাকে। তাই শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসকের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্রেন স্ট্রোক বুঝবেন কীভাবে: স্ট্রোক চিহ্নিত করার একটি সহজ পদ্ধতি হলো এফএএসটি পদ্ধতি।
এফএএসটি এর অর্থ : এফ অর্থ মুখ বেঁকে যাওয়া। মুখের এক পাশ হঠাৎ ঝুলে যেতে পারে। হাসতে বললে মুখ এক দিকে বেঁকে যায়। এ অর্থ হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া। একটি বা দুটি হাত তুলতে সমস্যা হয়, শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল লাগে। এস অর্থ কথা বলতে অসুবিধা। কথা জড়িয়ে যায়, স্পষ্টভাবে শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না। টি অর্থ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। এক মুহূর্ত দেরি না করে রোগীকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
প্রথম চার মিনিটে করণীয়: স্ট্রোক হয়েছে বলে সন্দেহ হলে রোগীকে কোনো খাবার, পানি বা ওষুধ দেবেন না। আঁটসাঁট পোশাক থাকলে খুলে দিন। লক্ষণ কখন থেকে শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখুন বা লিখে রাখুন। রোগীকে ঘুমাতে দেবেন না, যতটা সম্ভব সজাগ রাখার চেষ্টা করুন। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান।
ব্রেন স্ট্রোকের চিকিৎসা: স্ট্রোকের ধরন নির্ণয়ের জন্য সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রক্ত জমাট ভাঙার ওষুধ বা থ্রম্বেকটমির মতো চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, তত ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এরপর দ্রুত পুনর্বাসন চিকিৎসা শুরু হলে রোগীর কথা বলা, চলাফেরা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।
ব্রেন স্ট্রোকের ক্ষেত্রে চার মিনিটের নিয়ম কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি বাস্তব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চার মিনিট। তাই লক্ষণ চিনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারলে একটি জীবন এবং তার ভবিষ্যৎ দুটোই রক্ষা করা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/তা.কা