হৃদরোগ প্রতিরোধে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সুস্থ থাকতে হলে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী আজ রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’ শীর্ষক গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল (রিজভী)।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরো কাছাকাছি নিয়ে যেতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কিছুটা কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে এবার সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী নার্স নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং নির্বাচিতদের পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন, অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী প্রমুখ৷ এতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ন মহাসচিব নওশাদ হোসেন।
ভোরের আকাশ/এনএস