নিউরোলজিস্টদের মতে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার ৫টি কার্যকর অভ্যাস

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও তীক্ষ্ণ রাখা অনেকেরই লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ জীবনযাত্রার অভ্যাস মানসিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এবং ডিমেনশিয়া বা মানসিক অবসাদের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। মার্কিন নিউরোসায়েন্টিস্ট ও নিউরোলজিস্টরা সম্প্রতি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় তুলে ধরেছেন।
১. নিয়মিত হাঁটাহাঁটি
প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হাঁটাও মস্তিষ্কের জন্য যথেষ্ট উপকারী বলে জানান এনওয়াইইউ-এর অধ্যাপক ও নিউরোসায়েন্টিস্ট ডা. ওয়েন্ডি সিজুকি। হাঁটার ফলে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়। ধারাবাহিকভাবে হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে।
২. নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ
‘বিরক্তি এড়িয়ে চলা’ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন নিউরোলজিস্ট ডা. রিচার্ড রেস্টাক। নতুন ভাষা শেখা, মেমোরি গেম খেলা, বই পড়া কিংবা ভ্রমণ—এসব চ্যালেঞ্জ মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. সামাজিক সংযোগ বজায় রাখা
গবেষণায় দেখা গেছে, মানসম্মত সামাজিক সম্পর্ক মানসিক স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করে। আনন্দময় আড্ডা, হাসি-খুশি পরিবেশ এবং একসঙ্গে স্বাস্থ্যকর কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মস্তিষ্কের জন্য একা করার চেয়ে বেশি কার্যকর।
৪. আবেগ নিয়ন্ত্রণ
নিজের আবেগ সামলানোও মস্তিষ্কের নমনীয়তা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইতিবাচক স্মৃতির কথা মনে করে সেই অনুভূতি পুনরায় অনুভব করার মাধ্যমে ‘জয় কন্ডিশনিং’ চর্চা করা যায়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে মস্তিষ্ককে চাঙা রাখে।
৫. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
‘ব্রেন কেয়ার স্কোর’ নামের একটি মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ঘুম, খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক সংযোগ, ধূমপান ও চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় বিচার করা হয়। উচ্চ স্কোর মানে মস্তিষ্কের ভালো অবস্থা, আর কম স্কোর হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে তা উন্নত করা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/হ.র