আলো মডেল ক্লিনিকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
দেশের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে ‘আলো মডেল ক্লিনিক’-এর সফল অভিজ্ঞতা দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন: পরিধি বাড়ানোর জন্য সরকারের নির্দেশিত একটি মডেল’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নগরায়ণের ফলে শহরের ভাসমান ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। এ বাস্তবতায় আলো ক্লিনিক যেভাবে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে, তা অনুকরণীয়।
তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজে আলো ক্লিনিকের একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। সিটি করপোরেশন থেকে সরকারের দায়িত্বে আসা ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলো ক্লিনিকের কার্যক্রমের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।
মন্ত্রী বলেন, আর্থিক সামর্থ্য বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সহজপ্রাপ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সবসময় সম্ভব নয়। তাই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় উপজেলা, জেলা এবং জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকার রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “চিকিৎসার অভাবে আমরা এ দেশের একটি মানুষকেও মরতে দিতে চাই না। দেশের একেবারে শেষ প্রান্তের মানুষের কাছেও সহজে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে আলো ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য অধিদফতর। এতে সহযোগিতা করে সুইডেন দূতাবাস, ইউনিসেফ এবং পিএইচডি।
সভায় জানানো হয়, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বাস্তবায়িত আলো ক্লিনিক মডেলের আওতায় বর্তমানে দেশের চারটি শহরে ছয়টি ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে। এসব ক্লিনিকে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
এছাড়া কমিউনিটি আউটরিচ ও ডিজিটাল গৃহভিত্তিক পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা গর্ভবতী নারী শনাক্তকরণ এবং শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের কাজ করছেন। চারটি ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন স্বাভাবিক প্রসবকেন্দ্র চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা প্রদান করা হয়েছে।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালাই আহমেদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



