বিশেষ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিকা কার্যক্রম বন্ধ ছিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের পর দেশে কোনো টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ওই সময় তাদের ক্ষমতাকালে এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকাদান কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেতনতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ, নিওনেটাল ভেন্টিলেটর এবং শিশুদের নিউমোনিয়ার চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ছিল না। মার্চের শেষ দিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পরিদর্শনের পর থেকে তারা হামের বিষয়ে পূর্ণ নজরদারি শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, টিকা কার্যক্রম শুরুর সময় দেখা যায় পর্যাপ্ত টিকা নেই। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরামর্শে ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের সহযোগিতায় দ্রুত টিকা পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে।

চলমান টিকা কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ৫ এপ্রিল ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি (১০৪%) টিকা কভারেজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কার্যক্রম চলমান থাকবে। তিনি সিভিল সার্জনদের নিজ নিজ এলাকায় মার্কিং করে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, অতীতে টেন্ডার ও আউটসোর্সিংকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির কারণে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। এর জেরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, টিকাদান কর্মসূচি কোনোভাবেই দুর্বল করা যাবে না, বরং এটি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক বলেন, কোভিড ও হামের মতো সংকটকালীন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক।

সেমিনারে হাম বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি এবং আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন।

 

ভোরের আকাশ/সু.পা

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিকা কার্যক্রম বন্ধ ছিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী | স্বাস্থ্য কথা