বিশেষ

আয়রন ঘাটতির সংকেত দেখা দেয় চোখ ও মুখে

ছবি: সংগৃহীত

শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়া শুধু দুর্বলতা বা ক্লান্তির কারণ নয়, এর প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে পারে চোখ, ত্বক ও ঠোঁটেও। অনেকেই ফ্যাকাশে ত্বক, চোখের নিচে কালো দাগ কিংবা ঠোঁটের ফাটলকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের মতে, এসব পরিবর্তন অনেক সময় শরীরে আয়রনের অভাবের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে।

শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন না থাকলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। ফলে শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে চেহারার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতার ওপর। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখ ও মুখের নিচের ৫টি লক্ষণ খেয়াল করলে আয়রনের ঘাটতির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

চোখের নিচের পাতার ভেতরের অংশ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া : স্বাভাবিক অবস্থায় চোখের নিচের পাতার ভেতরের অংশ উজ্জ্বল লালচে বা গোলাপি রঙের থাকে। আয়রনের ঘাটতির কারণে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে এই অংশটি ফ্যাকাশে সাদা বা হালকা পীচ রঙের দেখাতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘কনজাংটিভাল প্যালর’ বলা হয়।

চোখের নিচে কালো দাগ : অনিদ্রা, মানসিক চাপ বা বংশগত কারণেও চোখের নিচে কালো দাগ হতে পারে। তবে আয়রনের ঘাটতির কারণে টিস্যুতে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে গেলে চোখের নিচের অংশ আরও কালচে দেখাতে পারে। যদিও শুধু ডার্ক সার্কেল দেখেই অ্যানিমিয়া নিশ্চিত হওয়া যায় না, তবুও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।

শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত চোখ : আয়রনের অভাব অশ্রুগ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে চোখে প্রয়োজনীয় অশ্রু তৈরি কমে যায়। এতে চোখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া : হিমোগ্লোবিন ত্বকে স্বাভাবিক লালচে আভা বজায় রাখতে সাহায্য করে। আয়রনের ঘাটতি হলে ত্বক ও ঠোঁটের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে ফ্যাকাশে দেখাতে পারে। ঘাটতি তীব্র হলে ত্বকে কিছুটা হলদেটে ভাবও দেখা দিতে পারে।

ঠোঁটের কোণে ফাটল বা ক্ষত : ঠোঁটের এক বা দুই কোণে বারবার ফাটল বা ব্যথাযুক্ত ক্ষত তৈরি হলে সেটি ‘অ্যাঙ্গুলার চেলাইটিস’ হতে পারে। আয়রনের অভাবে কোষ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে ঠোঁটের চারপাশের ত্বক শুষ্ক ও পাতলা হয়ে সহজেই ফেটে যায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

এসব লক্ষণের সঙ্গে যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা দুর্বলতা অনুভূত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক নিশ্চিত করবেন শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে কি না এবং সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন কিনা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়। কারণ শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে গেলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। তবে আয়রনসমৃদ্ধ ও আয়রন-ফর্টিফাইড খাবার নিয়মিত খেলে সাধারণ ঘাটতি পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী এবং যাদের ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হয়, তাদের আয়রনের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

ভোরের আকাশ/সু.পা

আয়রন ঘাটতির সংকেত দেখা দেয় চোখ ও মুখে | স্বাস্থ্য কথা