বিএমইউতে বিনামূল্যে ৬ লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরও ৪ রোগী

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের আওতায় বিনামূল্যে ছয়জন রোগীর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। আরও চারজন রোগীকে লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরও দুটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
উপাচার্য জানান, বিএমইউতে গড়ে প্রতি মাসে দুটি করে বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর এবং বাকি চারটি চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সব রোগী লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী একটি দেশে ১৪ দিনের হাসপাতাল প্যাকেজেই প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে ডোনার ও রোগীর যাতায়াত, থাকা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিলতার ক্ষেত্রে আইসিইউ ব্যয়সহ মোট খরচ প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে বিএমইউতে নিয়মিতভাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সম্ভব হলে একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রায় ৩০ লাখ টাকার মধ্যে করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এটি প্রাথমিক হিসাব বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য।
ডোনার নির্বাচন ও স্বচ্ছতার বিষয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়। আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম প্রতিরোধে প্রয়োজন হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, একজন ডোনার ও একজন রিসিপিয়েন্টকে ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। চিকিৎসাগত সামঞ্জস্য, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি ও লজিস্টিক সমন্বয় নিশ্চিত না হলে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সম্ভব নয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা



