ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে ‘সেভ বাংলাদেশ’র সংবর্ধনা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন “Save Bangladesh”-এর উদ্যোগে আজ সন্ধ্যায় এক উষ্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
ড. হায়দার দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় ফেয়ারফ্যাক্স, ভার্জিনিয়ায় বসবাস করেছেন। এ সময় তিনি প্রবাসী বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশকে সংগঠিত করে ‘সেভ বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠায় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যা ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি এবং মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক ও স্বৈরাচারবিরোধী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. হায়দার ‘সেভ বাংলাদেশ’-এর সাহসী ও সময়োপযোগী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে সংগঠনটির প্রতিবাদী অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেভ বাংলাদেশ’ প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে এবং বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সহায়তাও প্রদান করেছে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে বলে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে, খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রবর্তন করেছে, ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট পাইলটিং শুরু করেছে, ক্রীড়াবিদদের সম্মানী ভাতা প্রদান করছে এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে।
ড. হায়দার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে প্রবাসীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথা তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রবাসে অর্জিত উচ্চতর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।”
তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং দেশের উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমন নীতিমালা ও সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে যাতে প্রবাসীরা বিনিয়োগে আস্থা পান এবং দেশে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহিদ খান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন কামরুন নাহার কণা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা এবং বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নয়ন বাঙালী। বক্তারা ড. হায়দারের নতুন দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে প্রবাস ও দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



