বিশেষ

ঢামেক হাসপাতালে টয়লেট সংকট, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের চিকিৎসাসেবার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এবং সাধারণ মানুষের অন্যতম বড় ভরসাস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। কিন্তু এই হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের টয়লেটগুলোর বর্তমান চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে অধিকাংশ টয়লেট এখন ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি।

সম্প্রতি হাসপাতালের নতুন ও পুরাতন ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, অনেক টয়লেটের দরজা ভাঙা এবং কমোড ময়লা-আবর্জনায় ভরাট। কোথাও কোথাও নর্দমার দুর্গন্ধে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় অধিকাংশ টয়লেটের মেঝেতে সবসময় পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

এই দুর্বিষহ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা। পুরাতন ভবনের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা এক রোগীর স্বজন জাকির হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বাবাকে চিকিৎসার জন্য এখানে নিয়ে এসেছি সুস্থ হওয়ার আশায়। কিন্তু টয়লেটের যে বীভৎস অবস্থা, তাতে সুস্থ মানুষও দুই দিন থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়বে। এত বড় একটি হাসপাতাল, অথচ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটও নেই—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা আরেক রোগী মহন চন্দ্র বলেন, “টয়লেটের এমন দুর্গন্ধে কাছে যাওয়ার উপায় নেই। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাইরে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে হয়। হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন পরিবেশ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”

এদিকে, হাসপাতালের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, টয়লেট অস্বাস্থ্যকর থাকলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই), ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস এবং বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য এই পরিবেশ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

কেন এমন পরিস্থিতি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী সেবা নিতে আসে। অতিরিক্ত চাপের কারণে টয়লেটগুলো পরিষ্কার করার কিছুক্ষণ পরেই আবার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পাশাপাশি জনবল সংকট ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেও তারা সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। দ্রুত সংস্কার এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কঠোর তদারকির মাধ্যমেই কেবল এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রোগীদের রক্ষা করা সম্ভব।

অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালের টয়লেটের দুরবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত তীব্র দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “টয়লেটের যে অবস্থা, সেখানে কুকুর-বিড়ালও ঢোকে না।” তিনি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাথরুম ও টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

ঢামেক হাসপাতালে টয়লেট সংকট, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ