এসিতে থাকলেই কি কিডনির পাথরের ঝুঁকি বাড়ে?

ছবি: সংগৃহীত
গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এখন এয়ার কন্ডিশনার বা এসি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বাসা কিংবা অফিস—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় এসির ঠান্ডায় থাকা এখন সাধারণ ব্যাপার। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এই অভ্যাস কি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির ঠান্ডা বাতাস সরাসরি কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে এসির পরিবেশ আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে এমন কিছু পরিবর্তন আনতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রথমত, এসির ঠান্ডায় শরীর কম ঘামে, ফলে অনেক সময় তৃষ্ণা কম লাগে। এতে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করি। দীর্ঘ সময় শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন কিডনিতে পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ।
দ্বিতীয়ত, পানি কম পান করার ফলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। এতে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট ও ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থ জমাট বেঁধে ধীরে ধীরে পাথর তৈরি করতে পারে।
এছাড়া দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়ায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করা উচিত—প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার। এসির তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। পাশাপাশি একটানা দীর্ঘ সময় এসিতে না থেকে মাঝে মাঝে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকা দরকার।
খাদ্যাভ্যাসেও সচেতনতা জরুরি। লবণ কম খাওয়া এবং আঁশযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এসির ঠান্ডা নিজে কোনো সমস্যা নয়; বরং এর কারণে তৈরি হওয়া অসচেতন অভ্যাসই কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই গরমে এসির আরাম নিলেও শরীরের পর্যাপ্ত পানি ও সঠিক জীবনযাপনের দিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



