গরমকালে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কেন বাড়ে

পুষ্টিবিদ লিনা আকতার
তীব্র গরমে শরীরের ভেতরেও এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে কিডনির ওপর। ইউরোলজিস্টদের মতে, গরমকালে কিডনি এক ধরনের “কেমিক্যাল প্রেশার কুকার”-এ পরিণত হয়, যেখানে কিডনিতে পাথর (স্টোন) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং যাদের আগে থেকেই স্টোন আছে, তাদের সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
যাদের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে বা জিনগত কারণে কিডনি স্টোনের প্রবণতা আছে, তাদের জন্য গরমকালে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এছাড়া পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (PKD) থাকলেও ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, কারণ এই সময়ে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয় এবং খনিজ পদার্থ সহজেই জমতে শুরু করে। কিডনি মূলত শরীরের ফিল্টারের মতো কাজ করে। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত খনিজ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। কিন্তু গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গিয়ে তা ঘন হয়ে পড়ে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় “সুপারস্যাচুরেশন”।
এই অবস্থায় প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম ও অক্সালেট সহজে দ্রবীভূত হতে পারে না। তারা একত্রিত হয়ে ছোট ছোট ক্রিস্টাল তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে বড় হয়ে যন্ত্রণাদায়ক কিডনি স্টোনে পরিণত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত পানি আছে কি না তা বোঝার সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রং। যদি প্রস্রাব ফ্যাকাশে হলুদ বা স্বচ্ছ হয়, তাহলে শরীর ঠিকভাবে হাইড্রেটেড আছে। কিন্তু যদি রং আপেল জুসের মতো গাঢ় হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে পানির ঘাটতি হচ্ছে এবং স্টোন তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। গরমের সময়ে প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস জরুরি, কারণ দীর্ঘ সময় পানি না খেলে প্রস্রাব আরও ঘন হয়ে যায়।
কিডনি স্টোন প্রতিরোধে লেবু বা সাইট্রাস জাতীয় ফল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে, যাকে অনেক সময় “লেমনেড থেরাপি” বলা হয়। লেবুর রসে থাকা সাইট্রেট প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর তৈরিতে বাধা দেয়। তাই প্রতিদিন পানিতে অন্তত ৩০ মিলি লেবুর রস যোগ করা উপকারী। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি না মেশানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ চিনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
লেখক : রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর
ভোরের আকাশ/সু.পা



