বিশেষ

হরমোন সমস্যা এখন জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ : ডা. ফরিদ উদ্দিন

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হরমোন দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বক্তব্য দেন চিকিৎসক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশের (এসেডবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

তিনি বলেন, ‌‘বাংলাদেশে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের হরমোনের সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তাদের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ জানেন না যে তারা হরমোন সমস্যায় আক্রান্ত। হরমোন সমস্যা মূলত সাইলেন্ট কিলারের মতো নীরবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে।’

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, হরমোনজনিত রোগগুলোর মধ্যে থাইরয়েড সমস্যা, স্থূলতা (অবেসিটি), ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিলতা এখন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও পলিসিস্টিক ওভারি রোগের একটি বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে এসব রোগ প্রতিরোধযোগ্য।

তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ এবং অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ হরমোনের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, যা ডায়াবেটিস, বন্ধ্যাত্ব ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।’

তিনি যোগ করেন, শিশুদের মধ্যেও এখন হরমোনজনিত সমস্যা বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণার উল্লেখ করে তিনি জানান, স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশের ওজন বেশি এবং ৫-৬ শতাংশ ইতোমধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

নবজাতকের হরমোনজনিত রোগ দ্রুত শনাক্তের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জন্মের পরপরই যদি পরীক্ষা করা যায়, অনেক জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। সামান্য খরচে চিকিৎসা দিয়ে একটি শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।’ হেলদি মাদার, হেলদি বেবি, হেলদি নেশন এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আগে নিশ্চিত করতে হবে ‘হেলদি হরমোন’।

নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, কেমিক্যাল ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং সুষম খাদ্যগ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন। অপচিকিৎসা ও ভুয়া বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

তিনি স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বলেন, প্রতিটি মেডিকেল কলেজে হরমোনজনিত রোগের সমন্বিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দাবী করেন, একটি জাতীয় হরমোন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার, যেখানে জটিল ও বিরল রোগগুলোর চিকিৎসা ও গবেষণা করা যাবে।

গণমাধ্যমের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিডিয়ার সহযোগীতায় জনগণের মধ্যে মহামারি সম্ম্পর্কে সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে এই নীরব ঘাতক অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি মেহদী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল ও কার্যনির্বাহী সদস্য আক্তার হোসেন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

হরমোন সমস্যা এখন জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ : ডা. ফরিদ উদ্দিন | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ