ইঁদুর থেকে ছড়ানো বিরল ঝুঁকিপূর্ণ রোগ হান্টাভাইরাস

ছবি: সংগৃহীত
হান্টাভাইরাস একটি বিরল কিন্তু সম্ভাব্য মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের একটি প্রমোদতরীতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় এই ভাইরাসের সংক্রমণের সন্দেহ করা হচ্ছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই জাহাজে অন্তত একটি হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম এবং আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মূত্র, মল বা দেহরসের মাধ্যমে ছড়ায়। শুকনো মলের ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ভেসে গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দূষিত বস্তু স্পর্শ করার পর মুখ বা নাকে হাত দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। খুব বিরল ক্ষেত্রে ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও এটি ছড়াতে পারে। মানুষের মধ্যে সংক্রমণ প্রায় দেখা যায় না, তবে দক্ষিণ আমেরিকার একটি নির্দিষ্ট ধরনে সীমিতভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে।
রোগটির প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো—জ্বর, ক্লান্তি, শরীর ব্যথা ও কাঁপুনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি গুরুতর আকার নিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কিডনি বিকলতা, আবার কিছু ক্ষেত্রে ফুসফুসে তরল জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হান্টাভাইরাস ভিন্ন ধরনের অসুস্থতা সৃষ্টি করে। ইউরোপ ও এশিয়ায় এটি কিডনিকে প্রভাবিত করে, আর আমেরিকায় ফুসফুসজনিত জটিলতা বেশি দেখা যায়। সংক্রমণের পর উপসর্গ প্রকাশ পেতে এক সপ্তাহ থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষজ্ঞরা ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, ইঁদুর প্রবেশের পথ বন্ধ করা, খাবার সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ এবং ময়লা যথাযথভাবে ফেলার পরামর্শ দেন। ইঁদুরের মল পরিষ্কার করার সময় দস্তানা ব্যবহার ও জীবাণুনাশক প্রয়োগ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও এটি খুব সাধারণ রোগ নয়। তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইঁদুরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এই সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।
প্রমোদতরীতে এই সংক্রমণ কীভাবে ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুরের উপস্থিতি বা পূর্ববর্তী কোনো বন্দরে সংক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



