নতুন উদ্বেগ হান্টাভাইরাস, ডব্লিউএইচও’র বার্তা

ছবি: সংগৃহীত
হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, আক্রান্ত প্রমোদতরি এমভি হন্ডিয়াসে থাকা সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেন, সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও উন্নত সুরক্ষামূলক পোশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত।
তিনি জানান, হান্টাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে যেসব ব্যক্তি আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন, তারা সংক্রমিত হয়েছেন কি না, তা শনাক্তের কাজ চলছে।
তবে মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ স্পষ্ট করে বলেন, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ পদ্ধতি কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নয়। তার ভাষায়, “এই ভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। এটি কোভিডের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না।”
কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি বলেন, “এটি নতুন কোনো কোভিড মহামারির সূচনা নয়। বর্তমানে সংক্রমণটি একটি নির্দিষ্ট জাহাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
সম্প্রতি আটলান্টিক মহাসাগরে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসে তিনজনের মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন অসুস্থ হওয়ায় ভাইরাসটির সংক্রমণ ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
হান্টাভাইরাস কী?
হান্টাভাইরাস মূলত এক ধরনের ভাইরাসগোষ্ঠী, যা সাধারণত ইঁদুর ও এ জাতীয় ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর লালা, মল-মূত্র বা তাদের বসবাসের জায়গার ধুলিকণার সংস্পর্শে এলে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’-এর তথ্যমতে, ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে এই ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় হান্টাভাইরাসের কারণে ‘হান্টাভাইরাস কার্ডিওপালমোনারি সিনড্রোম’ (এইচসিপিএস) নামে রোগ দেখা যায়, যা ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রকে গুরুতরভাবে আক্রান্ত করে। এ ধরনের সংক্রমণে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হতে পারে।
অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ায় ভাইরাসটি ‘হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম’ (এইচএফআরএস) সৃষ্টি করে, যা কিডনি ও রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা না পেলে উভয় ধরনের সংক্রমণই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক ১০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস জানিয়েছে, ওই জাহাজ থেকে নামা দুই ব্যক্তির শরীরে ‘আন্দেস ভাইরাস’ শনাক্ত হয়েছে। এটি হান্টাভাইরাসের একটি ধরন, যা শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যেও ছড়াতে সক্ষম।
ভোরের আকাশ/সু.পা



