সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বক্তাদের
অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার ৭১ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটসমৃদ্ধ অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াতে এসব খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগজনিত।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত “বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলা: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিংয়ের ভূমিকা” শীর্ষক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন বক্তারা। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমের ২৮ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন। তবে এসব পণ্যের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সহজবোধ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যে চিনি, লবণ ও চর্বির সঠিক পরিমাণও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকে না। ফলে ভোক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা ছাড়াই খাদ্য নির্বাচন করেন।
বক্তারা বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্যের সম্মুখভাগে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালু করা হলে ভোক্তারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বি রয়েছে। “অতিরিক্ত” সতর্কবার্তা যুক্ত এই লেবেলিং ব্যবস্থা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং উৎপাদকদেরও পণ্যের মান উন্নত করতে উৎসাহিত করবে।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, বিশ্বে ইতোমধ্যে ৪৪টি দেশে এফওপিএল চালু হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে এবং ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়লেও এ খাতে বরাদ্দ খুবই সীমিত—মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ। ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)-এর কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।
কর্মশালার মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল ও শবনম মোস্তফা।
ভোরের আকাশ/সু.পা



