অতিরিক্ত পেইনকিলার সেবনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত
মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা কিংবা সামান্য অস্বস্তি অনুভব করলেই অনেকেই ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছামতো ব্যথানাশক বা পেইনকিলার কিনে সেবন করেন। বিশেষ করে এনএসএআইডি (NSAIDs) জাতীয় ওষুধ—যেমন আইবুপ্রোফেন, ডিক্লোফেনাক কিংবা ন্যাপ্রোক্সেন—এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদে বা নিয়ম না মেনে এসব ওষুধ সেবন করলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ব্যথানাশক সেবনে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি
কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি: অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবনের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। এসব ওষুধ কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্রনিক কিডনি ডিজিজের কারণ হতে পারে।
পাকস্থলীতে ক্ষত বা আলসার: খালি পেটে বা দীর্ঘদিন ব্যথানাশক সেবনে পাকস্থলীর দেয়ালে প্রদাহ তৈরি হয়। এর ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসার, এমনকি পাকস্থলীতে ছিদ্র হয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও হতে পারে।
হৃদরোগের ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু শক্তিশালী ব্যথানাশক নিয়মিত সেবনে উচ্চ রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
লিভারের ক্ষতি: প্যারাসিটামল তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা হলেও এর অতিরিক্ত ডোজ লিভারের মারাত্মক ক্ষতি বা লিভার ফেইলিওরের কারণ হতে পারে।
সতর্ক সংকেত: কখন সাবধান হবেন?
ব্যথানাশক সেবনের পর নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা রং পরিবর্তন হওয়া
- পা বা মুখ ফুলে যাওয়া
- পেটে তীব্র ব্যথা বা কালচে রঙের মল ত্যাগ
- ত্বকে চুলকানি বা র্যাশ
- প্রতিকার ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
স্বাস্থ্য পরীক্ষা : যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যথানাশক সেবন করেন, তাদের নিয়মিত কিডনি ও লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ওষুধের বিকল্প অনুসরণ : সামান্য ব্যথায় ওষুধের পরিবর্তে গরম বা ঠান্ডা সেঁক, পর্যাপ্ত বিশ্রাম কিংবা হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে।
সঠিক ডোজ নেওয়া : কোনো ওষুধ কতদিন এবং দিনে কতবার সেবন করতে হবে, তা অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।
খালি পেটে ওষুধ না করা : প্রয়োজনে ব্যথানাশক সেবন করলে কখনোই খালি পেটে খাবেন না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্যাস্ট্রিকের ওষুধও নিতে পারেন।
ব্যথা শরীরের একটি সতর্ক সংকেত, এটি নিজে কোনো রোগ নয়। তাই ব্যথা চেপে রাখার পরিবর্তে এর মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সামান্য ব্যথায় পেইনকিলার সেবনের অভ্যাস ত্যাগ করে প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ থাকার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ভোরের আকাশ/সু.পা



