বিশেষ

প্রসবপূর্ব যত্নে অবহেলা নয়, প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

গর্ভকাল প্রতিটি নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময় শুধু মায়ের নয়, অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশও নির্ভর করে সঠিক পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসচেতনতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের আগ থেকেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।

ডায়াবেটিসে বাড়ে জটিলতার আশঙ্কা
গর্ভাবস্থায় টাইপ-১, টাইপ-২ কিংবা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস মা ও শিশুর জন্য নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশুর জন্ম, মৃত সন্তান প্রসব, নির্ধারিত সময়ের আগেই অপরিণত শিশুর জন্ম এবং সিজারিয়ান ডেলিভারির ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনের শিশুর জন্ম হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সেই শিশুর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা জানান, গর্ভধারণের আগ থেকেই সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

উচ্চ রক্তচাপও হতে পারে বড় ঝুঁকির কারণ
উচ্চ রক্তচাপ গর্ভবতী মা ও অনাগত শিশুর জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে মায়ের প্রি-একলাম্পশিয়া, একলাম্পশিয়া, ব্রেইন স্ট্রোকসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, শিশুর ক্ষেত্রে সময়ের আগে জন্ম, কম ওজন নিয়ে জন্ম, অপরিণত অবস্থায় জন্ম এবং গর্ভে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাইপোথাইরয়েডিজমেও বাড়তে পারে জটিলতা
হাইপোথাইরয়েডিজম হলো থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিজনিত রোগ। গর্ভাবস্থায় শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি এর অন্যতম কারণ। এই রোগের কারণে গর্ভপাত, নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম, কম ওজনের শিশুর জন্ম এবং কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউরের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত মায়ের সন্তানের স্নায়বিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গর্ভবতী নারীর অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য, হাত ঝিমঝিম করা বা ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো উচিত।

অন্তত চারবার প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা
মা ও শিশুকে নিরাপদ রাখতে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত অ্যান্টিনেটাল চেকআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় অন্তত চারবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রথমবার ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে, দ্বিতীয়বার ২৪ থেকে ২৬ সপ্তাহে, তৃতীয়বার ৩২ সপ্তাহে এবং চতুর্থবার ৩৬ থেকে ৩৮ সপ্তাহের মধ্যে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের আগেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে মা ও নবজাতকের অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ভোরের আকাশ/সু.পা

প্রসবপূর্ব যত্নে অবহেলা নয়, প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা | স্বাস্থ্য কথা