পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তায় নতুন কৌশল প্রণয়নে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্য নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় খাদ্য পরিবেশ কৌশল’ (এনএফইএস) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ কৌশল প্রণয়নের কাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভায় ‘নিউট্রিশন ফর গ্রোথ’ এবং ‘জাতিসংঘ খাদ্য ব্যবস্থা শীর্ষ সম্মেলন’-এ দেওয়া বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) ডব্লিউএইচওর ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এ সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং খাদ্যব্যবস্থা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সভায় দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা বলেন, দেশে একদিকে এখনো অপুষ্টির সমস্যা রয়েছে, অন্যদিকে বাড়ছে অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা ও খাদ্যাভ্যাসজনিত অসংক্রামক রোগ। পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
আলোচনায় পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ তৈরি, খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়, ইউনিসেফ, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন) এবং সান একাডেমির বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা বৈশ্বিক ও জাতীয় অভিজ্ঞতার আলোকে স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে বিভিন্ন নীতিগত প্রস্তাব তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী এ পরামর্শ সভার মাধ্যমে জাতীয় খাদ্য পরিবেশ কৌশলের কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সুশাসন কাঠামো প্রণয়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিশুদের সুরক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার এবং খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



