স্বাস্থ্য সেবা

রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণে ন্যাশনাল হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা: আইসিটিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড চালু হলে দেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন, ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা হবে আরও দ্রুত, নির্ভুল ও সমন্বিত।

বুধবার (২২ জুলাই) চীনের শি'আনে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইন্টিগ্রেশন ফর হেলথ– টুওয়ার্ডস অ্যা নিউ কো-অপারেটিভ ইকোসিস্টেম অ্যালং দ্য সিল্ক রোড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল হেলথ কার্ড চালু হলে রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য চিকিৎসকেরা দ্রুত দেখতে পারবেন। এর ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর হবে। এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো—ঢাকার একটি আধুনিক হাসপাতালে একজন রোগী যে মানের চিকিৎসাসেবা পান, দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষও যেন একই মানের সেবা পাওয়ার সুযোগ পান।

ফকির মাহবুব আনাম জানান, সরকার একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি প্রণয়নের কাজ করছে। এই নীতির ভিত্তি হবে মানবাধিকার, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং কেউ যেন এর সুফল থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া টেকসই ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধানের সমন্বয়ে কাজ করছে। একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

চীন সরকারের অর্থায়নে বিশ্ব ইন্টারনেট কনফারেন্সের (ডব্লিউআইসি) উঝেন সামিট সচিবালয় এই সিল্ক রোড ফোরামের আয়োজন করে। এতে চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা, শানসি প্রদেশের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

২১ ও ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, আলজেরিয়া, জাম্বিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়া, মরক্কো, সুদান, তিউনিসিয়া, রাশিয়া ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণে ন্যাশনাল হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা: আইসিটিমন্ত্রী | স্বাস্থ্য কথা