স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস ডিম ও দুধ

ছবি: সংগৃহীত
প্রোটিনের প্রসঙ্গ উঠলেই সবার আগে যে দুটি খাবারের নাম আসে তা হলো ডিম ও দুধ। সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দুই খাবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেশি গঠন, শক্তি বৃদ্ধি বা সাধারণ স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই এগুলো বহুল ব্যবহৃত।
প্রোটিনের পরিমাণে কতটা পার্থক্য
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম ও দুধের প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি। একটি বড় ডিমে থাকে প্রায় ৬–৭ গ্রাম প্রোটিন, আর ২৫০ মিলিলিটার দুধে পাওয়া যায় প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন। উভয়ই সম্পূর্ণ প্রোটিন, যেখানে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বিদ্যমান।
পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
ডিম ও দুধ শুধু প্রোটিন নয়, আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এদের মধ্যে থাকা যৌগ শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। দুধের কেসিন ও হোয়ে প্রোটিন হজমের সময় ভেঙে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেপটাইড তৈরি করে, যা কোষকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে।
ডিম কেন জনপ্রিয়
ডিম সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং দ্রুত প্রস্তুতযোগ্য একটি খাবার। এতে থাকা প্রোটিন সহজে হজম হয়। পাশাপাশি ডিমে রয়েছে কোলিন, ভিটামিন বি১২ এবং সেলেনিয়াম, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহায়তা করে।
দুধের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
দুধের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রোটিনের ধরন। এতে থাকা হোয়ে প্রোটিন দ্রুত শোষিত হয়, আর কেসিন ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে প্রোটিন সরবরাহ হয়। এছাড়া দুধে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি রয়েছে, যা হাড় ও দাঁতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কোনটি বেশি উপকারী
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম ও দুধ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং পরিপূরক। ডিম সকালের নাস্তায় বেশি কার্যকর, আর দুধ দৈনন্দিন খাদ্যে সহজে অতিরিক্ত পুষ্টি যোগ করে। তাই প্রোটিনের সর্বোচ্চ উপকার পেতে খাদ্যতালিকায় উভয়কেই রাখা উত্তম।
ডিম ও দুধ—দুটিই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রোটিনের উৎস। আলাদা সুবিধা থাকলেও একসঙ্গে গ্রহণ করলে পুষ্টির ভারসাম্য আরও ভালোভাবে বজায় রাখা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/সু.পা



