বিশেষ

টিকাদানে বিঘ্ন: ২৬ রোগে ঝুঁকির মুখে দেশ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বাস্থ্য খাত বর্তমানে একটি গুরুতর সংকটময় সময় পার করছে। টিকা ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে সংক্রামক ও অসংক্রামক মিলিয়ে অন্তত ২৬টি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিশুস্বাস্থ্যে, কারণ নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় অনেক শিশু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকার ডোজ পায়নি। এর ফলে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। ইতোমধ্যে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি হঠাৎ বন্ধ বা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। হাম-রুবেলা, যক্ষ্মা, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, এইচআইভি, ডিপথেরিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কৃমিনাশক কার্যক্রম, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন এবং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ উদ্যোগ বন্ধ থাকায় শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা ক্রয় পদ্ধতিতে আকস্মিক পরিবর্তন এবং সমন্বয়ের অভাব এই সংকটের অন্যতম কারণ। আগে আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সহজে টিকা সংগ্রহ করা গেলেও নতুন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সময়ের পরিকল্পনার ঘাটতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে টিকা সংগ্রহ জোরদার, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সারা দেশে নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের অর্জন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

টিকাদানে বিঘ্ন: ২৬ রোগে ঝুঁকির মুখে দেশ | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ