বিশেষ

যে খাবারগুলো স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়

ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই ভুলে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যার মতো বিষয়গুলোর মুখোমুখি হন। তবে এসবের সঙ্গে আমাদের খাদ্যাভ্যাসেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পুষ্টিকর খাবার শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের গঠন, কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান—যেমন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, কোলাইন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন ভিটামিন—মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এসব উপাদানের ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং চিন্তার গতি কমে যেতে পারে। এ ছাড়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যও মস্তিষ্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ অন্ত্র মানসিক সুস্থতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং মেজাজ ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্মৃতিশক্তি বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সহায়ক এমন ১২টি খাবার নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে প্রথম পর্ব—

ডিম : ডিমকে বলা হয় স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার জন্য আদর্শ খাবার। এটি কোলাইন নামক উপাদানের সেরা উৎস, যা অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি করে; এটি স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা ধরে রাখে। এছাড়াও ডিমের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মন ভালো রাখার হরমোন ‘সেরোটোনিন’ তৈরিতে সাহায্য করে।

তৈলাক্ত মাছ : মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হলো সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা মস্তিষ্কের কোষের গঠন এবং স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

বেরি জাতীয় ফল : স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এর ফ্লেভোনয়েড উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং নতুন মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা দেয়। এটি বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয় রোধেও কার্যকর।

সামুদ্রিক শৈবাল : আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২ এর চমৎকার উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল। আয়োডিন বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে থাকা টাউরিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখে।

অ্যাভোকাডো : পুষ্টিবিদদের মতে এটি বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত খাবার। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে [৯]। এর টাইরোসিন উপাদান আপনাকে কাজে মনোযোগী ও অনুপ্রাণিত রাখতে ভূমিকা রাখে।

কেল (সবুজ শাক) : কেল বা এই জাতীয় সবুজ শাক পুষ্টির বোমা হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ মৌখিক স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ভিটামিন ‘সি’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।

আখরোট : মস্তিষ্কের জন্য আখরোট হলো বাদামদের মধ্যে সেরা। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে।

ডার্ক চকোলেট : চকোলেটে থাকা 'আনন্দমাইড' নামক উপাদান মনকে পরম শান্তিতে ভরিয়ে দেয় [১৭]। এর সামান্য ক্যাফেইন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি আপনাকে অস্থির করে তোলে না।

হলুদ : রান্নার এই অতি পরিচিত মশলাটি বিষণ্ণতা রোধে ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।

অলিভ অয়েল : অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় ফাংশন উন্নত করে। এটি মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী প্রোটিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

ফার্মেন্টেড বা গেঁজানো খাবার : দই বা কিমচির মতো খাবারগুলো আপনার ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বা অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। সুস্থ অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় ৩০টিরও বেশি নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি করে, যা মনোযোগের সমস্যা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোধে সাহায্য করে।

নারকেল তেল : নারকেল তেলে উচ্চমাত্রায় এমসিটি থাকে যা মস্তিষ্ককে সরাসরি শক্তি জোগায়। এটি আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় বর্তমানে বেশ সম্ভাবনাময় খাবার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সঠিক ডায়েট এবং পুষ্টিকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে কেবল সচলই রাখে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনকে করে তোলে আনন্দময়। সূত্র : নিউরো হেলথ অবলম্বনে

ভোরের আকাশ/সু.পা

যে খাবারগুলো স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায় | স্বাস্থ্য কথা