ইরান কি এবার ‘অলআউট’ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে?

দুই হাজার কিলোমিটারের আত্মঘাতী এই স্বঘোষিত সীমা তুলে নেওয়ার অর্থ হলো, ইরান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আরও বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দূরবর্তী অঞ্চল এবং ইউরোপের কিছু অংশ পর্যন্ত নিজেদের সামরিক সক্ষমতার পরিধি বিস্তার করতে চাইছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং সামরিক সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় পরিবর্তনকারী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর কয়েক দিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ও মাত্রার হুমকির জবাব দেওয়া হবে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই।
নেতানিয়াহুর শাসনের অবসানের দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভনেতানিয়াহুর শাসনের অবসানের দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার সীমা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মোহেব্বি বলেন, আমাদের জন্য ওই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে ইরান বাস্তবে এসব সক্ষমতা দেখাবে। তবে ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গ্রিস ও বলকান অঞ্চলের কিছু অংশ, পুরো আরব উপদ্বীপ, লেভান্ট অঞ্চল এবং মিসরের বেশির ভাগ এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব।
নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত রাখার দাবি করলেও গত মার্চে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ মার্কিন-যুক্তরাজ্য সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার চেষ্টা করেছিল ইরান। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘাঁটিটি ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/আ.র