শিরোনাম
রাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীমালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণবন্দরে পড়ে থাকা সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগরাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুনশেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে: রিজভীপররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীসৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকএমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও একই হারে পে-স্কেল পাবেন: শিক্ষামন্ত্রীরাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীমালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণবন্দরে পড়ে থাকা সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগরাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুনশেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে: রিজভীপররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীসৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকএমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও একই হারে পে-স্কেল পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

রাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন থাকতেই পারে। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন সরকারি দফতরের কাজে নয়, ঘটাতে হবে ব্যালট বাক্সে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রধান পরিচয় তারা জনগণের সেবক। তাই সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাত নয়, সততা, দক্ষতা ও মানবিকতাই হতে হবে তাদের মূল ভিত্তি।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাতে সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস বা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন থাকতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই। তবে সরকারি পদ ও দায়িত্ব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। রাজনৈতিক সমর্থনের প্রতিফলন ঘটাতে হবে ভোটের মাধ্যমে, সরকারি অফিসে নয়।

সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং তা সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমেই করছে। তবে এর পেছনে রয়েছে জনগণের নির্বাচনি ম্যান্ডেট। জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের সামনে নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরা হয়েছিল। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সেই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে নির্বাচনি ইশতেহার এখন আর কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের দলিল নয়; এটি জনগণের ম্যান্ডেট ও সরকারের নীতিতে পরিণত হয়েছে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়ন করাই সরকারের দায়িত্ব। আর এ দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে তারা জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল তারা শিখেছেন। এখন রাষ্ট্রের জনপ্রশাসনে যে দায়িত্বই তাদের ওপর অর্পিত হোক, অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে বর্তমানে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ প্রশাসন, কেউ পররাষ্ট্র, কেউ কৃষি, শিক্ষা, কর কিংবা তথ্য ক্যাডারে যোগ দেবেন। কাজের ধরন ও কর্মস্থল আলাদা হলেও সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। তাদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউ আর দেয়ার টু সার্ভ দ্য পিপল’—আপনারা জনগণের সেবা করার জন্যই নিয়োজিত।

সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেকোনো বয়সের একজন নাগরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি দফতরে এলে তার সঙ্গে এমন আচরণ করতে হবে, যেমন আচরণ নিজের জন্য প্রত্যাশা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি নীতিবাক্য স্মরণ করিয়ে দেন—‘অন্যের সঙ্গে তেমন আচরণ করুন, যেমন আচরণ আপনি নিজের জন্য প্রত্যাশা করেন।’

আইন ও বিধিবিধান মেনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তাকে অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে কতটা মানবিক ও আন্তরিক আচরণ করা হচ্ছে, সেটিও আধুনিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো নাগরিক আবেদনপত্র নিয়ে এলে তাতে ভুল থাকলে তাকে সংশোধন করে আনতে বলা অন্যায় নয়। তবে কোথায় ভুল হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে দেখিয়ে দেওয়া এবং কোথায় গিয়ে সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়াই মানবিকতা ও আন্তরিকতার পরিচয়। জনগণ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করে।

পছন্দের পদে পদায়ন ও পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের যেকোনো স্থানে, যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই প্রকৃত পেশাদারত্বের পরিচয়। মনে রাখতে হবে, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নবীন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

মালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নবীন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ দূষণমুক্ত ও সুস্থ রাখা কোনো দলীয় বিষয় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্যের স্বার্থে এটি জাতীয় দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে চার মাসব্যাপী ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাদের মধ্য থেকে প্রশিক্ষণে সেরা ১০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন তিনি।

ভোরের আকাশ/এনএস

শেয়ার করুন: