বায়ুদূষণে পাকিস্তানে মানুষের আয়ু কমছে প্রায় ৪ বছর

বায়ুদূষণের কারণে পাকিস্তানে মানুষের গড় আয়ু আনুমানিক ৩ দশমিক ৯ বছর কমছে। দূষিত বায়ুর প্রভাবে দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। পাকিস্তান এয়ার কোয়ালিটি ইনিশিয়েটিভের (পিএকিউআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। আর দীর্ঘদিন দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে লাহোরের বাসিন্দাদের গড় আয়ু সাত বছর পর্যন্ত কমতে পারে।
‘আনভেইলিং পাকিস্তানস এয়ার পলিউশন : আ ন্যাশনাল ল্যান্ডস্কেপ রিপোর্ট অন হেলথ রিস্কস, সোর্সেস অ্যান্ড সলিউশনস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশটির বায়ুদূষণের উৎস, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরা হয়েছে।
এতে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন খাতের দূষণকারী পদার্থের নির্গমনসংক্রান্ত সমন্বিত জাতীয় হিসাবের পাশাপাশি একাধিক শহরের বায়ুমান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডি ও পেশোয়ারের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এসব শহরে দূষণের প্রধান উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি নির্গমন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত পিএকিউআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা জানান, মাটিতে স্থাপিত পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বায়ুমানের তথ্য, স্যাটেলাইটের উপাত্ত এবং স্থানীয় কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ব্যবহার, যানবাহনের ধরন, শিল্পকারখানার তথ্য এবং বিভিন্ন খাত থেকে নির্গত দূষণকারী পদার্থের হিসাব। বিশ্লেষণে সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম২.৫, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইডের নির্গমন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
লাহোরে দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাহোরে বছরে পিএম২.৫-এর গড় ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ১১০ মাইক্রোগ্রামের বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বার্ষিক নির্দেশক মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ, লাহোরের বাতাসে এই দূষণকারী কণার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশক সীমার ২২ গুণেরও বেশি।
এমন দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে লাহোরের মানুষের গড় আয়ু সাত বছর পর্যন্ত কমতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।
শীতকালে তাপমাত্রার উল্টাবিন্যাসের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এ সময় বায়ুমণ্ডলে দূষিত কণার ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমে যায়। ফলে দূষিত বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি জমা থাকে।
লাহোরে পিএম২.৫ নির্গমনের সবচেয়ে বড় উৎস পরিবহন খাত। মোট নির্গমনের ৩৫ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। এরপর রয়েছে শিল্পকারখানা, যেখান থেকে আসে ২৮ শতাংশ, এবং ইটভাটা, যার অবদান ১৭ শতাংশ। শীতকালীন আবহাওয়া এসব উৎসের দূষণজনিত প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেয়।
করাচিতে শিল্পকারখানা প্রধান উৎস
করাচিতে বায়ুদূষণের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটির মোট দূষণকারী পদার্থের নির্গমনের ৪৯ শতাংশের জন্য দায়ী শিল্পকারখানা।
পাকিস্তানের বিভিন্ন বড় শহরে দূষণের উৎস আলাদা হলেও এর স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপক। প্রতিবেদনটিতে দূষণ কমাতে খাতভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
ভোরের আকাশ/এম