পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পূর্ণ সক্ষমতায় ইরান: কামালভান্দি

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে ইরান এবং দেশটির পারমাণবিক শিল্প এখন পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
আণবিক শক্তি সংস্থার আন্তর্জাতিক, আইন ও সংসদবিষয়ক উপপ্রধানের দায়িত্বেও থাকা কামালভান্দি বিশ্বে পারমাণবিক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ সম্মেলনে ইরানি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে
তিনি বলেন, পারমাণবিক শিল্পের ব্যবহার মূলত দুটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত, জ্বালানি উৎপাদন এবং জ্বালানি-বহির্ভূত প্রয়োগ। জ্বালানি-বহির্ভূত ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তি চিকিৎসা, কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এ শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে পারমাণবিক জ্বালানিবিষয়ক ষষ্ঠ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন চলছে বলে জানান কামালভান্দি।
বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারমাণবিক জ্বালানির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পরিবেশগত সমস্যাগুলো গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কামালভান্দি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং যানবাহনের বিদ্যুতায়নের মতো আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে বিদ্যুতের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্প্রসারণ এখন অনিবার্য প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকে নিরবচ্ছিন্ন ভিত্তিগত বিদ্যুৎ সরবরাহের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বায়ু ও সৌরশক্তির মতো কিছু পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদন আবহাওয়া, সূর্যালোকের তীব্রতা কিংবা বাতাসের গতির ওপর নির্ভরশীল। বিপরীতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে স্থিতিশীল ও ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ বৈশিষ্ট্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উন্নয়নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে কামালভান্দি বলেন, আণবিক শক্তি সংস্থায় প্রায় ১৪ বছর ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারেন, দেশটির পারমাণবিক শিল্প পূর্ণ পরিপক্বতা অর্জন করেছে এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেও স্বনির্ভরতা এসেছে।
ভোরের আকাশ/এম