ইরানে সামরিক মিশন এখনও শেষ হয়নি: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক মিশন বা অভিযান এখনো শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। রোববার (৮ নভেম্বর) জেরুজালেমে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর থেকে দুই দফায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বোমা হামলার শিকার হওয়া ইরান আবারও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে নতুন করে অভিযোগ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ। তবে তেহরান বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।
এক অনুষ্ঠানে কাৎজ বলেছেন, ইরানে আমাদের মিশন এখনও শেষ হয়নি। অন্যান্য গুরুতর প্রচেষ্টার পাশাপাশি ইরান পুনরায় পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে; যা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে বাস্তব ও চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
এদিকে, রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিকবার হামলার হুমকি দিয়েছেন।
তবে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এতে সমর্থন রয়েছে কি না, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের কারণে বড় ধরনের ধাক্কা ও পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প।
ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, গত ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের ঠিক আগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি জানতে পেরে শেষ মুহূর্তে তা আটকে দেয়।
কাৎজ বলেন, আমরা গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো থেকে পিছু হটব না। ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়ে হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলে হামলা চালানোর পথ বেছে নেয়, তাহলে তাদের অত্যন্ত কঠোর ও ভয়াবহ আঘাত সহ্য করতে হবে।
২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছেন নেতানিয়াহু, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান আইজেনকোট ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহুর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও রাজনৈতিক সমর্থন নেই এবং তার রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সেনাবাহিনীর যুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়। যদিও নেতানিয়াহুর যুদ্ধের মূল সিদ্ধান্তগুলোতে আইজেনকোটের বড় ধরনের সমর্থন ছিল।
কাৎজ বলেন, আমাদের মধ্যে বিতর্ক বা মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যখন ঝুঁকির মুখে পড়ে, তখন মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দাঁড়ানোর কৌশল আমাদের জানা থাকতে হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র