নাসার ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারসনিক গোয়েন্দা বিমান ‘গায়েব’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার নিল আর্মস্ট্রং ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টার থেকে রহস্যজনকভাবে ‘গায়েব হয়ে গেছে’ উচ্চগতির ইতিহাসে কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত লকহিড এসআর-৭১ ব্ল্যাকবার্ড বিমানটি। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার ওই ঘাঁটির প্রদর্শনীতে থাকা ৮৪৪ টেইল নম্বরের এসআর-৭১এ বিমানটিকে গত ১৭ মের পর থেকে আর দেখা যায়নি। এমনটাই দাবি করেছেন বিখ্যাত ম্যাগাজিন এভিয়েশন উইকের প্রতিরক্ষা সম্পাদক স্টিভ ট্রিম্বল।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রদর্শনী ক্ষেত্র থেকে বিমানটির এমন হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামরিক ও উড্ডয়ন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, নাসা হয়তো নতুন কোনো উচ্চগতির পরীক্ষামূলক বিমান কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এজন্য এই ঐতিহাসিক বিমানটিকে নতুন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা প্রকাশনা এভিয়েশন উইকের কাছে এই রহস্যময় পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছেন নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। তিনি সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত অল-ইন সামিটে এসআর-৭১-এর মতো দেখতে একটি সিলুয়েট উন্মোচন করেছিলেন।
তিনি জানান, নাসার বিমানচালনা সেবায় তারা এক্স-প্লেন বহর পুনর্গঠন করছেন। এক্স-৫৯ দিয়ে নীরব সুপারসনিক উড্ডয়ন নিয়ে গবেষণা শুরু হলেও এটি কেবল তাদের বিস্তৃত পরিকল্পনার সূচনা।
অন্য এক সাক্ষাৎকারে তিনি রহস্য আরও ঘনীভূত করে বলেন, ‘আপনি কি নিশ্চিত যে ওটা একটা ব্ল্যাকবার্ড?’ তার এই মন্তব্য থেকে জল্পনা তৈরি হয়েছে, নাসা হয়তো ব্ল্যাকবার্ডের সক্ষমতায় অনুপ্রাণিত হয়ে কোনো উড়োজাহাজ তৈরির কাজ করছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে সাধারণ মানুষের প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর বিমানটিকে পরিদর্শনের জন্য একটি হ্যাঙ্গারে রাখা হয়। তবে নাসা এসআর-৭১-কে পুনরায় উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি।
১৯৯০-এর দশকে তৎকালীন ড্রাইডেন ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারে উচ্চগতির ও উচ্চ-উচ্চতার বিমানচালনা গবেষণার পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছ থেকে দুটি এসআর-৭১ ধারে এনে ব্যবহার করত নাসা। এরমধ্যে একটি ছিল এসআর-৭১এ এবং অন্যটি দুই আসনের প্রশিক্ষণ সংস্করণ এসআর-৭১বি।
লকহিডের ‘স্কাঙ্ক ওয়ার্কস’ নামে পরিচিত অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি প্রজেক্টসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্ল্যারেন্স কেলি জনসনের নেতৃত্বে তৈরি এই ব্ল্যাকবার্ড ছিল এ-১২ গোয়েন্দা বিমান ও ওয়াইএফ-১২ ইন্টারসেপ্টর পরিবারের সবচেয়ে উন্নত সদস্য।
বিমানটি বর্তমানে কোথায় আছে, সে বিষয়েও নাসা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করে কিছুই বলেনি।
১৯৬৪ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রথম উড্ডয়ন করা এই বিমানটি ম্যাক ৩-এর চেয়েও বেশি অর্থাৎ ঘণ্টায় ২ হাজার ২০০ মাইলেরও বেশি গতিতে ৮৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারত। উড্ডয়নের এই চরম গতি ও তাপমাত্রার সক্ষমতার কারণেই নাসা এটিকে বায়ুগতিবিদ্যা, প্রপালশন, কাঠামো, তাপ সুরক্ষা ও সনিক বুম গবেষণার কাজে ব্যবহার করেছিল।
বর্তমানে নাসা যখন কম শব্দে সুপারসনিক ভ্রমণ সম্ভব করতে এক্স-৫৯ পরীক্ষার মাধ্যমে ভূমির ওপর সনিক বুম কমানোর গবেষণা জোরদার করছে, ঠিক তখনই ৬১-৭৯৮০ সিরিয়াল নম্বরের নির্মিত সর্বশেষ ও ১৯৯৯ সালে উড্ডয়ন করা সর্বশেষ এই এসআর-৭১ বিমানটির অন্তর্ধান নতুন কৌতূহল জাগিয়েছে।
অবসরের এক দশকেরও বেশি সময় পরও বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বিমান হিসেবে পরিচিত ব্ল্যাকবার্ডের এই রহস্যজনক উধাও হওয়া নাসার নতুন উচ্চগতির গবেষণা কার্যক্রমের বড় কোনো ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে উড্ডয়নপ্রেমীদের নজর এখন নাসার দিকে।
ভোরের আকাশ/এনএস