হঠাৎ বন্যায় বিপর্যস্ত থাইল্যান্ড, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ প্রদেশ ফুকেটে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতভর বৃষ্টির পর দেশটির তিনটি জেলায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে প্রাদেশিক রাজধানী ফুকেট সিটিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
প্রাদেশিক উপগভর্নর রমদন হাইয়াওয়ে জানান, সোমবার সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বন্যার পানি কমতে শুরু করে। তবে নিচু এলাকাগুলোর কিছু অংশ তখনো পানির নিচে ছিল। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো এড়িয়ে চলতে ছোট যানবাহনের চালকদের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও জানান, কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসও হয়েছে। খাল ও জলপথে মাটি-পাথরসহ ধ্বংসাবশেষ জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সেগুলো সরানোর কাজ করছেন কর্মকর্তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানি আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়েছে এবং সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও বন্যার পানিতে ভেসে আসা কাদা ও পাথরের নিচে আংশিকভাবে চাপা পড়ে যানবাহন।
রমদন জানান, বন্যায় প্রায় ১০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সোমবার পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
থাইল্যান্ডের আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, বুধবার পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ভারী ও অব্যাহত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত এসব বন্যায় অন্তত ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে রাজধানী ব্যাংককেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। সে সময় হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয় এবং ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন সতর্কবার্তার পর দক্ষিণাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আরও বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভোরের আকাশ/জেআ