আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার ইসরায়েলকে ধ্বংস করবে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন যে, আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার গঠিত হলে তা ভেতর থেকে ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দেবে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহু বর্তমানে ইসরায়েলের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে শনিবার সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।
২৮ দিনের মধ্যে আইজেনকোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনে তাকে আরও ১৪ দিন সময় দেওয়া হতে পারে। তারপর সরকার গঠনের জন্য ডাকা হতে পারে নেতানিয়াহুকে। এমন পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোকে নিয়ে বিরোধী শিবিরকে সতর্ক করলেন তিনি।
আইজেনকোট সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর শনিবার রাতে এক ভিডিওবার্তায় ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহুর দাবি, বিরোধী দলগুলো আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের যে চেষ্টা করছে, তা ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তার ভাষায়, এসব দলের মধ্যে ইসলামপন্থি ও ইহুদিবিরোধী দলও রয়েছে।
এ কারণে সব ইহুদিবাদী ও জাতীয় শিবিরের দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নিজের পুরোনো জোটের চরমপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোকেও এই সরকারে রাখতে চান নেতানিয়াহু। এর মধ্যে রয়েছে চরম জাতীয়তাবাদী দল ‘রিলিজিয়াস জায়নজম’ ও ‘ওতজমা ইহুদিত’ এবং কট্টরপন্থি ধর্মীয় দলগুলো।
তবে নেতানিয়াহুর পুরোনো সহযোগীরা চরমপন্থি ও উগ্রনীতিতে বিশ্বাসী হওয়ায় বিরোধী দলগুলো তাদের সঙ্গে একই সরকারে যোগ দিতে রাজি নয়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঐক্য সরকার গঠনের জোর দাবি তুললেও সেই সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
আইজেনকোটের নাম উল্লেখ না করে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘একজন খুব তাড়াহুড়ো করছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি শপথ নিয়ে ফেলতে পারেন। ইসরায়েলে তিনি এমন সরকার গঠন করতে চাইছেন, যা ইসরায়েলকেই মুছে দিতে চায়!’
নেতানিয়াহুর দাবি, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সমর্থক আরব দলগুলো। ইসরায়েল সরকার এসব দলের ওপর নির্ভরশীল হলে কখনো হামাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে না।
গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলজুড়ে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। নেতানিয়াহুর কথায়, ‘এমন সরকার গঠন হলে ইসরায়েল বলে কিছু আর থাকবে না।’
ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি, যেখানে ন্যাশনাল ক্যাম্পের সব দল, ইহুদিপন্থি সব দল থাকবে, যারা আমাদের দেশকে রক্ষা করতে চায়। জাতীয় ঐক্য সরকার গঠিত হলে ইহুদিরাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল সুরক্ষিত হবে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি আর থাকবে না এবং আমরা সবাই একজোট হতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিওবার্তার জবাবে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি তার বিরুদ্ধে ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছে।
দলটি বলেছে, ‘লিকুদ পার্টি এবং তাদের বন্ধুদলগুলো বৃহত্তর ঐক্য সরকার গড়ে তুলতে হঠাৎ করে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। যদি তারা সত্যিই তা চায়, তবে চরমপন্থিদের সঙ্গে জোট আগে ভাঙতে হবে। আইজেনকোটের চারটি নীতি মেনে নেওয়া এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার কথা তাদের আগে প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে।’
অন্যদিকে, আইজেনকোট বারবার বলেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই হাত মেলাবেন না। নেতানিয়াহু ও তার ঘনিষ্ঠ নেতাদের রাজনীতি থেকে সরে যেতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আইজেনকোট চারটি নীতি ঘোষণা করেছেন। প্রথমত, হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সব সামরিক ঘাঁটি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ধ্বংস করা। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলকে ইহুদিপন্থি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। তৃতীয়ত, স্বাধীনতার ঘোষণার মূল্যবোধ গ্রহণ করা। চতুর্থত, সবার জন্য বাধ্যতামূলক পরিষেবা চালু করা।
আইজেনকোট জানিয়েছেন, ইসরায়েলের আইনসভা নেসেটের যেসব সদস্য এই চার নীতিকে সমর্থন করবেন, তাদের সঙ্গেই তিনি হাত মেলাতে প্রস্তুত।
ভোরের আকাশ/আ.র