যুদ্ধ বাধিয়ে নিজেকে ভুক্তভোগী সাজাতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের পছন্দমতো যুদ্ধ শুরু করে পুরো অঞ্চলকে আগুনের মুখে ঠেলে দেওয়ার পর এখন নিজেকেই ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।
বাঘাই বলেন, গত নয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দু’বার ইরানে হামলা চালিয়েছে। অথচ দুই ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। তার অভিযোগ, এসব হামলায় ইরানের বেসামরিক নাগরিকেরা নিহত হয়েছেন, দেশটির নেতাদের হত্যা করা হয়েছে এবং তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকও যুক্তরাষ্ট্র নষ্ট করে দিয়েছে। অথচ এখন ওয়াশিংটন বিশ্ববাসীর কাছে ইরানের নিন্দা দাবি করছে।
তিনি বলেন, “আপনারা দু’বার ইরানে হামলা চালিয়েছেন, অথচ তখন আলোচনা চলছিল। ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছেন, নেতাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তু করেছেন এবং নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করেছেন।”
বাঘাই আরও বলেন, “আপনারা ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ধ্বংস করেছেন। আর এখন আপনারা দাবি করছেন, বিশ্ব যেন ইরানের নিন্দা করে।”
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি সামরিক আগ্রাসনের মূল্য দিতে হচ্ছে গোটা বিশ্বকে। এর ফলে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে, অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে তৈরি হচ্ছে নতুন অনিশ্চয়তা।
বাঘাই বলেন, “আপনাদের বেআইনি আগ্রাসনের মূল্য বিশ্বকে দিতে হচ্ছে- আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে।”
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আপনারা নিজেদের ইচ্ছায় যুদ্ধ শুরু করতে পারেন না, পুরো অঞ্চলকে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে পারেন না, বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিয়ে এরপর নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরতে পারেন না।”
তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট, ইরানের ওপর সামরিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করছে দেশটি।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বাড়ছে উত্তেজনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বাঘাইয়ের এই বক্তব্য নতুন করে দুই দেশের বিরোধের গভীরতা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে আলোচনা চলাকালে হামলা চালানো এবং সমঝোতা স্মারক ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তেহরান ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
তবে ইরানের এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কাও এ সংঘাতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বাঘাইয়ের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরান আবারও এই বার্তা দিয়েছে যে, সংঘাতের জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক জনমত নিজেদের পক্ষে নেওয়াই তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থানের অন্যতম লক্ষ্য। সূত্র: আল-জাজিরা
ভোরের আকাশ/এনএস