ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধানের পদত্যাগের ঘোষণা

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় নয় মাস আগেই দায়িত্ব ছাড়ছেন। আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করবেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ইসিবি এ ঘোষণা দিয়েছে। তার মেয়াদ ২০২৭ সালের অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
ইউরোজোনের সুদের হার নির্ধারণ নিয়ে ইসিবির গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে লাগার্দের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে। এ সময় কাউন্সিলের সদস্যরা তাকে ধন্যবাদ জানান এবং দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালি দিয়ে তার প্রতি সম্মান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় লাগার্দ বলেন, ইসিবির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য ‘গর্বের ও বিশাল সম্মানের’ বিষয় ছিল।
তিনি বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার সময় তার মনে হচ্ছে, তিনি ভালো কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান রেখে যাচ্ছেন।
লাগার্দের পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে প্রতিবছর বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করে সংস্থাটি। গত বছর ডব্লিউইএফের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াব আর্থিক ও নৈতিক অসদাচরণের অভিযোগের মুখে পদ ছাড়েন। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লাগার্দকে সংস্থাটির নেতৃত্ব নেওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তার আগাম বিদায়ের মধ্য দিয়ে ইসিবির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। ইউরোজোন যখন দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে, তখন নতুন প্রধান নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে রয়েছেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান ক্লাস নট, স্পেনের ব্যাংকার পাবলো হার্নান্দেজ দে কোস, জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান ইয়োয়াখিম নাগেল এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া কালভিনো। ইউরোপীয় কাউন্সিল ইসিবির প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে।
২০১৯ সালের শেষ দিকে ইসিবির দায়িত্ব নেন লাগার্দ। তার মেয়াদে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ভোরের আকাশ/এনএস