যুক্তরাষ্ট্রের চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরানের পাশে চীন

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপকে উপেক্ষা করে চীন ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেইজিংকে একের পর এক কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও চীন ইরানের পাশে থাকার নীতি বজায় রেখেছে।
কিন্তু মার্কিন এই অন্যায্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সাফ অবস্থান নিয়েছে বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এসব একতরফা ও বেআইনি নিষেধাজ্ঞা তারা কোনোভাবেই মানে না।
ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলসহ সব ধরনের সম্পর্ক আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে বজায় রাখবে তারা। এর মাধ্যমে চীন বুঝিয়ে দিয়েছে যে জোর করে পুরো বিশ্বকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো কায়দা এখন আর চলবে না।
এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছিল যে চীন, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে নাকি ফাটল ধরেছে। কিন্তু এই খবর পুরোপুরি ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। মূলত ইউরেশিয়া অঞ্চলের এই তিন শক্তিশালী দেশ এক হয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন ও রাশিয়া পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ভাঙাই যদি যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র নীতি হয়, তবে ভবিষ্যতে বিশ্বে যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যাবে। ঠিক এই কারণেই ওয়াশিংটন, লন্ডন বা প্যারিসের অনৈতিক হুকুম বা নিষেধাজ্ঞার কাছে মাথা নোয়াতে রাজি নয় বেইজিং ও মস্কো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ তেহরানের সঙ্গে নিজেদের বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ এই ফ্লাইটগুলো চালু থাকলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতো। কিন্তু মার্কিন ভয়ে তারা নিজেদের লাভ বিসর্জন দিয়ে উল্টো পথে হাঁটছে।
ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মন জুগাতে গিয়ে এই দেশগুলো নিজেদের পায়ে নিজেই কুঠারাঘাত করছে। একসময় হয়তো দেখা যাবে, লাভের বদলে এই দেশগুলোর নিজস্ব বিমানবন্দরগুলোই ফাঁকা পড়ে আছে।
ভোরের আকাশ/আ.র