হরমুজ খুলতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ইরানের প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর বিষয়ে তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের দীর্ঘদিনের কয়েকটি দাবি পূরণের কথা বলা হয়েছে।
তবে আরাঘচি প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো বিস্তারিত জানাননি। তিনি বলেন, এসব শর্ত নতুন কিছু নয়; জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে যেসব বিষয় ছিল, তার বাইরে কিছু চাওয়া হয়নি। ওই সমঝোতা স্বাক্ষরের পরপরই আবারও সংঘাত শুরু হলে তা কার্যত ভেস্তে যায়।
জুনের ওই সমঝোতায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ ছাড় এবং লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান বন্ধের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের নতুন প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরান এমন একটি চুক্তি করতে চাইছে, কারণ দেশটি যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আলোচনায় বসার বিষয়ে তার আপত্তি নেই বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি চুক্তি করতে পছন্দ করেন, কিন্তু ইরানের প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
আরাঘচি শুক্রবার জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেই তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বলে মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরাঘচি আরও বলেন, কোনো দেশকে বোমা হামলা, ধ্বংসের হুমকি, সমুদ্র অবরোধ এবং জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে ফেলে স্বাভাবিক নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে, এমনটা প্রত্যাশা করা যায় না।
ইরানের প্রস্তাব নিয়ে এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ওয়াশিংটন আলোচনায় তাড়াহুড়ো করছে না।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে একই ধরনের অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন আলোচনা প্রয়োজন হবে।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বোমা হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে বলেও ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সূত্র: সিএনএন
ভোরের আকাশ/এম