চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেট পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে: বিজেপির এমপি

ভারত ভাগের সময় ঐতিহাসিক ভুল করা হয়েছিল দাবি করে প্রতিবেশী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর, নোয়াখালী এবং সিলেট অঞ্চল ‘পুনরুদ্ধার’ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে।
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা আসন থেকে নির্বাচিত এই আইন প্রণেতা স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর তীব্র সমালোচনা করে ওই অঞ্চলগুলোকে ‘পাক-অধিকৃত কাশ্মীর’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিশিকান্ত দুবে বলেন, ‘আমার মতে, কেবল পাকিস্তানের কাছ থেকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার করার সময়ই আসেনি, নেহেরুজির ভুলের কারণে হস্তান্তরিত অঞ্চলগুলোও ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর এবং সিলেট।’
সাক্ষাৎকারে বিজেপির এই এমপি দাবি করেন, ১৯৪৭ সালের ভারতভাগের সময় তৎকালীন তিপ্রা বা ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা বীরবিক্রম সিংহ এই অঞ্চলগুলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
নিশিকান্ত দুবের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রাজা বীরবিক্রম নেহেরুর নীতির ধারাবাহিক বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন কীভাবে ত্রিপুরার ঐতিহাসিক সীমানা ও ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে এবং কেন চট্টগ্রাম ও সিলেটে গণভোটের সুযোগ দেওয়া হলো। রাজা স্পষ্ট বলেছিলেন যে ত্রিপুরা ভারতের অংশ হবে নাকি স্বাধীন থাকবে তা নির্ধারণের অধিকার তার, কিন্তু নেহেরু তা মানেননি।’
তিনি আরও দাবি করেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার বল্লভভাই প্যাটেল ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে সামরিক পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করার কারণেই শেষ পর্যন্ত ত্রিপুরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অংশ হতে পেরেছিল।
ভারতভাগের সময় চট্টগ্রাম বন্দর পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অধীনে চলে যাওয়ার কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন দুবে।
তিনি বলেন, ‘আজ যদি উত্তর-পূর্ব ভারত পিছিয়ে থাকা অঞ্চল মনে হয়, সেখানকার খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ঠিকমতো ব্যবহার করা না যায় এবং জনগণের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ থাকে—তার একমাত্র কারণ হলো ভারতের কাছে চট্টগ্রাম বন্দর না থাকা। তাই এখন চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং সিলেট পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে।’
এ ছাড়া ১৯৪৬ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলিম লীগকে অন্তর্ভুক্ত করার কৌশল নিয়ে এবং নোয়াখালীর দাঙ্গার পটভূমি নিয়েও জওহরলাল নেহেরুর বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন এই বিজেপি নেতা।
নিশিকান্ত দুবের এই মন্তব্য নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক সীমানা ও সার্বভৌম কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র নিয়ে দেশের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত নয়।
এর আগেও নিশিকান্ত দুবে একাধিক বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। দু’বছর আগে লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কিষাণগঞ্জ ও কাটিহার জেলা মিলিয়ে একটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি তুলেছিলেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে ওই অঞ্চলগুলোতে জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে।
এ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে লোকসভার ‘এথিক্স কমিটিতে’ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে তার সদস্যপদ খারিজ আবেদনের প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন এই বিজেপি সংসদ সদস্য।
তার এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের ব্যাপারে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ভোরের আকাশ/ইউএম