ভারত মহাসাগরের চীন-পাকিস্তানের তৎপরতায় সাবমেরিন শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত

ভারত মহাসাগরে চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের সাবমেরিন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। শনিবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনী-প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠী।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বহিঃআঞ্চলিক শক্তিগুলোর উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়ছে। আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সজাগ ও সচেতন। এই অঞ্চলে বাইরের শক্তির বাড়তি সক্রিয়তা আমাদের ‘সহযোগিতার যুগ’ থেকে ‘তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে’ নিয়ে যাচ্ছে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি চীনের তৈরি চারটি ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। গত মাসে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী বলেন, “একটি পেশাদার সামুদ্রিক বাহিনী হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী তার আশপাশের সব আঞ্চলিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। আমাদের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ সক্ষমতাভিত্তিক এবং সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সচেতন।”
ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ‘প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (পি-৭৫আই)’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ত্রিপাঠীর ভাষ্য, “এই প্রকল্পের আওতায় নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন ছয়টি সাবমেরিন এবং ২০০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ যুক্ত হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে এসব প্ল্যাটফর্ম দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আত্মনির্ভরতা নীতির ভিত্তিতে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে কাজ করছি। দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
তবে ভারতের এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয় বলেও উল্লেখ করেন নৌবাহিনী-প্রধান। তিনি বলেন, “কোনো দেশ বা জাতিকে লক্ষ্যবস্তু করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা শুধু ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে ভারতের বৈধ জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চাই এবং এই অঞ্চলকে স্থিতিশীল, মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখতে অবদান রাখতে চাই।”
ভোরের আকাশ/সু.পা