লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দখলের পরিকল্পনা ইসরায়েলের

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে এবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশ ‘স্থায়ীভাবে’ দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই বিতর্কিত পরিকল্পনার কথা জানান।
কাৎজ জানান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে একটি সুনির্দিষ্ট ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ (Security Zone) গড়ে তুলবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘লিতানি নদী’ পর্যন্ত পুরো অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরাসরি ইসরায়েলের হাতে। লিতানি নদী লেবাননের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ জলপথ, যা দেশটির ভূখণ্ডকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধের কারণে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া লেবাননের কোনো নাগরিককে আর সেখানে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে গাজার মতো ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অভিযান চালিয়ে এলাকাটি জনশূন্য করে ফেলা হবে এবং আইডিএফ-এর কঠোর পাহারায় রাখা হবে।
ইসরায়েলের এই ঘোষণা লেবানন পরিস্থিতির ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অন্য দেশের ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে দখল করা নিষিদ্ধ হলেও ইসরায়েল তাদের জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এই পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে। এর ফলে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আরও বড় ধরণের পাল্টা হামলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ