হুথিদের বিরুদ্ধে ৭৫৬ অভিযান চালানোর দাবি ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ৭২ ঘণ্টায় ৭৫৬টি সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি জানান, এসব অভিযানে হুথিদের ২ হাজার ৩১৬ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। একই সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ চার ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার—টানা তিন দিনে এসব অভিযান চালানো হয়। বিমান, ড্রোন, ফিল্ড আর্টিলারি ও রকেট লঞ্চারের মাধ্যমে ইয়েমেনের কিতাফ ও আল-বাকা, আলাব, আল-জাউফ, মারিব, আল-বায়দা, লাহজ ও তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
কর্নেল আল-নুজাইলি বলেন, অভিযানে হুথিদের সামরিক যান, সেনা পরিবহনকারী যান, সামরিক রসদ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদামসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে। তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এসব সংখ্যা ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দেওয়া দাবি; স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, ২৩ সেপ্টেম্বর লাহজ প্রদেশের আল-ধালেয়া জেলার একটি স্কুলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও চারজন আহত হন। একই সময়ে লাহজের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এতে বেসামরিক মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদারের কথা জানিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তাইজ ও লাহজসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের খবরও পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে। পরবর্তী সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হুথি ও সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বিভক্ত এবং সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সূত্র : আরব নিউজ
ভোরের আকাশ/সু.পা