ট্রাম্প-শি জিনপিংয়ের বৈঠক আলোচনা হতে পারে বাণিজ্য ও ভূরাজনীতি নিয়ে

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে যাচ্ছেন। তবে তার এই সফরকে ঘিরে বাণিজ্য উত্তেজনা, ইরান ইস্যু এবং তাইওয়ান সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি নজর এখন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের দিকে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা থাকলেও সফরসূচিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই, কারণ আগেই একটি অগ্রবর্তী মার্কিন দল বেইজিংয়ে পৌঁছে গেছে। খবরটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির এই বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে :
বাণিজ্য ও বাজার ব্যবস্থা : বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে বিমান, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানিতে আগ্রহী হতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ব্যবস্থাকে কাঠামোবদ্ধ করতে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে।
শুল্ক বিরতি : দুই দেশ আগের বাণিজ্য যুদ্ধের পর একটি সাময়িক শুল্ক বিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আইনি ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে সেই বিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চীন এই বিরতির মেয়াদ আরও বাড়াতে চাইবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান ইস্যু : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবও এই বৈঠকে পড়তে পারে। ওয়াশিংটন চাইবে, চীন যেন ইরানকে নতুন কোনো চুক্তিতে আসতে চাপ দেয়। পাশাপাশি ইরানি তেল কেনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
রেয়ার আর্থ বা দুষ্প্রাপ্য খনিজ : বিশ্বের প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্পে অপরিহার্য ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ এই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই খাতে নির্ভরতা কমাতে চাইলেও চীনের রপ্তানি নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে।
তাইওয়ান সংকট : স্বশাসিত তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে। শি জিনপিং এই ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাইতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং এই বিষয়ে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নেবে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই চীন সফরকে ঘিরে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভোরের আকাশ/সু.পা