শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে যেসব প্রস্তাব দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চলমান উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা রবিবার (১০ মে) জানিয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইরানের এই পাল্টা প্রস্তাবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।

আরবি ভাষার সংবাদমাধ্যম এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবে লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাকে তাদের অন্যতম প্রধান ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হিজবুল্লাহঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিন এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান তাদের ওপর আরোপিত তথাকথিত ‘অবরোধ’ প্রত্যাহার এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রস্তাবটিতে আরও রয়েছে:

বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা


মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।


হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব ও নৌ-চলাচল সংক্রান্ত নতুন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা।

বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাত শেষ হওয়ার পর একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ৩০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের জবাব ছিল ‘ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত’। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরান কেবল নির্দিষ্ট কোনো দেশ নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলে বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধের অবসান চায়।

ইরান ইতিবাচক সাড়ার কথা বললেও মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে ভিন্ন কথা। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই জবাব পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত পাতলা করা এবং এর একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত অন্য কোনো তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এখানে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় বা যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে চুক্তি থেকে সরে যায়, তবে ওই ইউরেনিয়াম পুনরায় ইরানের কাছে ফেরত দিতে হবে। এছাড়া ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে রাজি হলেও তার মেয়াদ ২০ বছরের কম হতে হবে বলে জানিয়েছে এবং তাদের কোনো পরমাণু স্থাপনা পুরোপুরি বন্ধ বা ধ্বংস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে জবাব দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো খুবই সম্ভব।’


যদিও গত রবিবার ট্রাম্প ইরানের পূর্ববর্তী একটি প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন। ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের ১৪ দফার একটি পাল্টা পরিকল্পনা পেশ করেছে।

ইরানের এই ১৪ দফার পরিকল্পনায় মূলত তিনটি প্রধান পর্যায় রয়েছে। যার লক্ষ্য হলো ৩০ দিনের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করা। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

ইরানের ওপর থেকে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার।

আরও পড়ুন

উত্তর প্রদেশে অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

লেবাননে ইসরায়েলি হামলাসহ সমস্ত বৈরী তৎপরতা বন্ধ করা।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন যদি তাদের এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়, তবে আলোচনা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। এখন বল পুরোপুরি ওয়াশিংটনের কোর্টে বলেও মন্তব্য করেছেন তারা। তবে পরমাণু ইস্যুতে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে দেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ভোরের আকাশ/এনউব

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে

শেয়ার করুন: