৭৩ বছর পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বোর্ডের নেতৃত্বে পাকিস্তান

পাকিস্তান দীর্ঘ ৭৩ বছর পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বোর্ড অব গভর্নরসের ২০২৭ সালের জন্য চেয়ারপারসন বা সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম দেশটি ঐতিহাসিক এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক দায়িত্ব লাভ করল।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান ২০২৬ সালের বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সাধারণ সভার প্লেনারী অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংককে আয়োজিত ২০২৬ সালের আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সাধারণ সেশনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহাদ খান চিমা বর্তমানে বিশ্বব্যাংকে দেশটির গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই অধিবেশনে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতি সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার জন্য এই বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
১২ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। প্রতিনিধিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থনীতি বিষয়ক নীতি নির্ধারক এবং ব্যবসায়ী নেতারা রয়েছেন।
পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এ অর্জনকে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯৫৩ সালের পর এবারই প্রথম পাকিস্তান পুনরায় সভাপতিত্বের দায়িত্ব ফিরে পাচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই দায়িত্ব বিশ্ব অর্থনীতি ও উন্নয়নবিষয়ক আলোচনায় পাকিস্তানকে অবদান রাখার সুযোগ করে দেবে। একইসঙ্গে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি গঠনমূলক আলোচনা সহজতর করতে এটি সাহায্য করবে।
অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কর্পোরেট সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা চিমাকে সভাপতি পদের বিভিন্ন দায়িত্ব ও নিয়মকানুন সম্পর্কে অবহিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের এই মেয়াদে বিভিন্ন দাপ্তরিক সহায়তা ও সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনার জন্য চিমা বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহ-সভাপতি ও কর্পোরেট সচিব আরাধনা কুমার-কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিবৃতি অনুযায়ী, বিদায়ী চেয়ারম্যান ও প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কার্লোস কারভালহো স্পাল্ডিংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের এই মন্ত্রী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফলভাবে মেয়াদ শেষ করায় স্পাল্ডিংকে অভিনন্দন জানান চিমা এবং তার দক্ষ পরিচালনার প্রশংসা করেন। এসময় আগামী বছরের অগ্রাধিকার ও নতুন দপ্তরের দায়িত্ব নিয়ে দুজন মতামত বিনিময় করেন।
বৈঠক চলাকালে চিমা কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি ও কণ্ঠস্বর বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর পাশাপাশি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অর্থায়ন সহজ করা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, একটি দায়িত্বশীল বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে পাকিস্তান আশাবাদী। এর অংশ হিসেবে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গঠনমূলক কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চিমা।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান টিভি জানিয়েছে, ব্যাংককে সম্মেলন চলাকালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত এক নৈশভোজে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্ষিক সেশনের উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি এই নৈশভোজটি দুজনের মধ্যে একটি সৌজন্য ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করে দেয়।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ব্যাংককে অবস্থান করছেন অর্থমন্ত্রী আওরঙ্গজেব।
তিনি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেখানে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, নীতি নির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন তিনি।
আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘ইএএফ’ সহায়তা এবং ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ‘আরএসএফ’ তহবিলের কর্মসূচিতে রয়েছে পাকিস্তান।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইএএফ’র চতুর্থ পর্যালোচনা ও আরএসএফ’র তৃতীয় পর্যালোচনার পর দুই পক্ষ কর্মকর্তা পর্যায়ের একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। এর ফলে আইএমএফের তহবিল থেকে পাকিস্তান প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার তোলার যোগ্যতা অর্জন করে।
ভোরের আকাশ/আ.র