পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দুই পরাশক্তির সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পরমাণু মুক্ত পৃথিবী’ গড়ার একটি পথ বের করতে সমকক্ষ দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে ওয়াশিংটন।
চীনের কাছে বর্তমানে প্রায় ৬২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের মজুত রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় খুবই কম। এই দুই দেশের প্রতিটির কাছেই ৪ হাজারেরও বেশি ওয়ারহেড রয়েছে। তবে ট্রাম্পের মতে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমকক্ষ হয়ে উঠবে চীন।
ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, কারণ সুযোগ পেলে আমি পুরোপুরি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করতে পছন্দ করতাম। এ বিষয়ে আমরা আসলে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলছি এবং চীনের সঙ্গেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে চীনকে খুব একটা আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নিউজম্যাক্স জানিয়েছে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তবে রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে হওয়া এই আলোচনার বিষয়ে আর কোনও তথ্য দেয়া হয়নি।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক ওয়ারহেডের মজুত রয়েছে রাশিয়ার কাছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই দুই দেশের কাছেই বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের আনুমানিক ৮৬ শতাংশ রয়েছে।
সিপরির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের অধিকারী চীন। গত এক বছরে তারা মজুত বাড়িয়ে ৬২০টি ওয়ারহেডে উন্নীত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ‘স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটির’ মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই এই দাবি করেন ট্রাম্প।
ভোরের আকাশ/আ.র