নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের, নিশানায় কাতার

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজে অর্থ দেওয়ার পেছনে কাতারের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। এ ঘটনায় বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সন্দেহ তদন্ত করছে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত।
তবে কাতার অর্থ দিয়েছে—এমন অভিযোগের পক্ষে এখনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগও তুলেছিল লিকুদ পার্টি। পুলিশ জানিয়েছে, ভোট চুরির অভিযোগ সমর্থন করার মতো কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিন বেতের কাছে পৌঁছানো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গের কাছেও উপস্থাপন করা হয়।
বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগে তদন্তহিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব নাগরিকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার কাজে যুক্ত কয়েকটি সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।লিকুদ পার্টির ধারণা, এসব সংগঠনের কাছে পাঠানো অর্থের উৎস কাতার। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থ পাঠানোর কথিত পদ্ধতির সঙ্গে অতীতে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু পদ্ধতির মিল রয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে বিদেশি অর্থায়ন এবং বিদেশি পক্ষের মাধ্যমে নির্বাচনে ঘুস দেওয়ার সন্দেহ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ।
তবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। অর্থের উৎস ও এর ব্যবহার সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।
ভোটের ফল চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিয়েছিল লিকুদ?
ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের আগেই আরব অধ্যুষিত এলাকার ফল চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছিল লিকুদ পার্টি।
নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ী না হলে দলটি নির্বাচন ‘চুরি’ হওয়ার অভিযোগ তুলতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের দাবি প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এর আগে লিকুদ পার্টি দাবি করে, আরব দলগুলো নির্বাচনে কারচুপি করেছে। তবে পুলিশ ওই অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, অভিযোগের পক্ষে কোনো সমর্থনযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
ভোরের আকাশ/এনএস