কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়েছে ইরান

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সামরিক সক্ষমতার একটি অংশ নিরাপদ পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুরক্ষিত রাখার অংশ হিসেবে কয়েক বছর ধরেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জানান তিনি।
তালায়ি-নিক বলেন, ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করার চেষ্টা দেশটির বিরুদ্ধে সংঘাতের অন্যতম অভিন্ন কারণ। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে গুরুত্ব এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের এই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় আগের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে আরও কিছু নতুন লক্ষ্য যুক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং নৌ সক্ষমতা দুর্বল করার প্রচেষ্টাও ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তালায়ি-নিকের ভাষ্য, এসব হামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষ তাদের প্রধান ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। একই সময়ে ইরানও প্রতিপক্ষের ওপর ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুরক্ষার পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে তালায়ি-নিক জানান, কয়েক বছর ধরে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার একটি অংশ নিরাপদ পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোয় স্থানান্তর করা হয়েছে।
তার দাবি, এর ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও অস্ত্র উৎপাদনের সামর্থ্য নিয়ে প্রতিপক্ষের কিছু হিসাব বাস্তবায়িত হতে পারেনি।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাও একই সময়ে জোরদার করতে হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের সহনশীলতা ও প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে, যাতে ইরান তার প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পারে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
ভোরের আকাশ/এম