পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, এক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত ১৪৭ ফিলিস্তিনি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও ভবন-স্থাপনা উচ্ছেদের কারণে এক সপ্তাহে অন্তত ১৪৭ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মতে, এই সংখ্যা ২০২৬ সালে প্রতি সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত মানুষের গড় সংখ্যার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।
ওসিএইচএ জানায়, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে রামাল্লা গভর্নরেটের হাজারো ফিলিস্তিনির জরুরি সেবা পাওয়ার সুযোগ ব্যাহত হয়েছে।
নাবলুসেও ইসরায়েলি অভিযান চালানো হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে কয়েকটি পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি স্কুল ও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলের হালহুল শহরের ওয়াদি কাবুন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে নাবলুস, রামাল্লা ও আল-খলিল এলাকায় বাড়িঘর ও যানবাহনে হামলা এবং সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ওসিএইচএ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে বসতিস্থাপনকারীদের হামলা, ভবন উচ্ছেদ ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের কারণে যত ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, তা পুরো ২০২৫ সালের সংখ্যার চেয়েও বেশি। ওই সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৬ দশমিক ৬টি এমন হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি, যাতে হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পশ্চিম তীরের ১০৭টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এদিকে ইহুদিদের সুক্কত উৎসব উপলক্ষে পশ্চিম তীরে এক সপ্তাহের জন্য চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন চেকপোস্ট ও সড়কপথে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনিদের কর্মস্থল ও প্রয়োজনীয় সেবায় যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/আ.র