আফগানিস্তানের ১০ লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা

সীমান্তে ড্রোন হামলা ও অনুপ্রবেশ চেষ্টার অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার।
এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আফগানিস্তানের তালিবান বাহিনী দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোহাত ও তোরখাম সীমান্ত এলাকায় প্রবেশের উদ্দেশ্যে আটটি ড্রোন হামলা চালায়। তবে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট ও ভূপাতিত করে।
এর আগে পাকিস্তান আরও জানায়, পাক-আফগান সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার পর আফগান তালিবান বাহিনী পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকি লক্ষ্য করে মর্টারের গোলা ও ভারী অস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা আর্টিলারি হামলা চালালে বেশ কিছু আফগান সীমান্ত চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানায় ইসলামাবাদ।
এদিকে, পাকিস্তানে সমস্ত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ।
এর আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় পূর্ব আফগানিস্তানে বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস হয়। ওই হামলায় ২৮ জন জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করে ইসলামাবাদ। তবে কাবুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের আফগান মিশনও এ তথ্য নিশ্চিত করে।
সাম্প্রতিক এই সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার ফলে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চীন, তুরস্ক, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর চলমান মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
ভোরের আকাশ/ ইউএম