শিরোনাম
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীনয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৯ কোটি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২:৫৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৯ কোটি মানুষ
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৯ কোটি মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক প্রতিবেদনে এই মারাত্মক উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও শরণার্থীর শিকার হওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই (৭৫ শতাংশ) বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো চরম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়ে সতর্ক করেছে, ঝুঁকিতে থাকা এসব জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য আরও অর্থায়ন প্রয়োজন।

তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ শুরুর আগে প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এমন সব দেশে বসবাস করছে, যেগুলো তীব্র জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানও রয়েছে। প্রতিবেদনে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশনস) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন বেঁচে থাকার বিষয়। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে- এমন জনগোষ্ঠীর কাছে জলবায়ু তহবিল পৌঁছানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জলবায়ু সংকটে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ

প্রতিবেদনে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের একটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে সুদানের আল-ফাশিরে সংঘাত থেকে পালিয়ে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী বসতিতে আশ্রয় নেন এক নারী। তিনি জানান, কখনো কখনো এক সপ্তাহ পর্যন্ত নিরাপদ পানির সন্ধান পান না। প্রচণ্ড গরম বাড়তে থাকায় কাছাকাছি মৌসুমি নদীর খাতগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিকল্প পানির উৎস খুঁজতে তাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি দূর হাঁটতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ দেশে টেকসইভাবে ফিরে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ঘটনাগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ঘটেছে এমন সব দেশে, যেগুলো জলবায়ুজনিত দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে ফিরে যাওয়া এসব মানুষ আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

সিরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ দেশে ফিরেছেন। কিন্তু সেখানে পানির সংকট আরও তীব্র হচ্ছে ও বৃষ্টিপাতের ধরনও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ আবারও বাস্তুচ্যুত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফ্রিকায় তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে আফ্রিকার শরণার্থী বসতিগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ইউএনএইচসিআরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থী বসতির একটিতে প্রতিবছর অন্তত ১০০ দিন বিপজ্জনক মাত্রার তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। এতে সেখানকার মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

ইথিওপিয়ার হেলাওয়েইনসহ কয়েকটি শরণার্থী বসতিতে বছরে ২০০ দিনেরও বেশি সময় বিপজ্জনক তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। এতে হিটস্ট্রোক ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের অনেকেরই শীতল পরিবেশ, নিরাপদ পানি ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানির পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে বিপজ্জনক তাপমাত্রা থেকে নিজেদের রক্ষা করা তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এল নিনো বাড়াতে পারে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি

ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হলে শরণার্থী আশ্রয়দাতা অনেক দেশে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে নতুন করে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় ভয়াবহ বন্যার কারণে ৩০ লাখ পর্যন্ত মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।

অন্যদিকে, সাহেল অঞ্চলে খরা, বন্যা ও সংঘাতের কারণে সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। এশিয়ার কয়েকটি অংশেও খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশ পৌঁছায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কপ-৩১ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সরকার ও জলবায়ু অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অভিযোজন খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলছে, বর্তমানে জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ পৌঁছায় সংঘাতপ্রবণ ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলোতে। অথচ এসব দেশের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এর আগে বুধবার জাতিসংঘের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। কিন্তু ধনী দেশগুলো এ পরিমাণ অর্থ জোগানোর ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অথচ বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন ঘটছে এবং সেগুলোর তীব্রতাও বাড়ছে।

ভোরের আকাশ/আ.র

শেয়ার করুন: