লিটনের সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লক্ষ্য ৪৭৯ রান

অস্ট্রেলিয়া সফরে টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার হতাশা পেছনে ফেলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন লিটন দাস। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসে ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি।
তাঁর ও মেহেদী হাসান মিরাজের বড় জুটিতে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ রান।
তৃতীয় দিন বিকেলে মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা। আগের দিন ৫ রানে অপরাজিত থাকা লিটনের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন মিরাজ, যাঁর রানের খাতা তখনো খোলেনি।
এরপর দুজন মিলে দলকে বিপর্যয় থেকে সামলে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন। তাঁদের জুটিতে বাংলাদেশের লিড চারশ ছাড়িয়ে যায়। একপ্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান লিটন, অন্য প্রান্তে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়েন মিরাজ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪ ও ২৬ রানে দুইবার জীবন পান লিটন। কায়েস আহমেদের বলে প্রথমবার স্লিপে তাঁর ক্যাচ ছাড়েন ফিল্ডার কামাল। পরে কায়েস নিজেও ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ৬১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন লিটন। এটি চলতি টেস্টে তাঁর টানা দ্বিতীয় ফিফটি এবং ক্যারিয়ারের ২২তম টেস্ট অর্ধশতক।
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান করার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন।
এরপর মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ১৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন লিটন। তাঁর ব্যাটে আসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। ১১৫ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর পর শেষ পর্যন্ত ১১৭ বলে ১০২ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার।
অন্য প্রান্তে নিজের দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করেন মিরাজও। তিনি ৯৭ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। দুজনের ব্যাটে বড় লিড পাওয়ার পর ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করেছিল। জবাবে হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের কার্যকর বোলিংয়ে আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট হয়। ফলে জয়ের জন্য স্বাগতিকদের সামনে এখন ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।
ভোরের আকাশ/সু.পা