সেমিফাইনালে চার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, পারফরম্যান্সে এগিয়ে ফ্রান্স

বিশ্বকাপের ২৩তম আসর এখন শেষ চারের উত্তেজনায়। সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল বিশ্বের চার পরাশক্তি—ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ড। কাকতালীয় হলেও সত্য, এই চার দলই বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার অবস্থানে রয়েছে। শুধু তাই নয়, চারটি দলই অতীতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে খুবই বিরল একটি ঘটনা।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাসে শিরোপার প্রধান দাবিদার ছিল ফ্রান্স। তাদের পরেই ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এছাড়া স্পেন ও ইংল্যান্ডকেও সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে ধরা হয়েছিল। এখন সেই চার দলই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে।
গ্রুপ পর্বে চার দলই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে ওঠে। এরপর রাউন্ড অব ৩২ ও কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে তারা নিশ্চিত করেছে শেষ চারের টিকিট। যদিও চার দলই এখনও অপরাজিত, তবে স্পেন ও ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে একটি করে ম্যাচে জয় পায়নি। ইংল্যান্ড ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে, আর স্পেনকে রুখে দেয় কেপ ভার্দে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচেই জয় পেয়েছে।
কেন আলাদা ফ্রান্স?
সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে খেলা প্রতিটি ম্যাচই নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে জিতেছে তারা। অর্থাৎ অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের প্রয়োজন পড়েনি ফরাসিদের।
স্পেনও গ্রুপ পর্বে কেবল কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করা ম্যাচটি ছাড়া বাকি সব ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই জিতেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে ড্র করার পাশাপাশি কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারাতে অতিরিক্ত সময়ের অপেক্ষা করতে হয়েছে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও এখন পর্যন্ত অপরাজিত। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তাদের সব জয়ই এসেছে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে। তবে শেষ আটের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে হারাতে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলতে হয়েছে লিওনেল মেসিদের। ফলে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে একমাত্র ফ্রান্সই এখনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিটি ম্যাচ জিতে শতভাগ সফলতার রেকর্ড ধরে রেখেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা