ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়রতে চায় জাপান

গত বছরের অক্টোবরে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত জাপানের কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। সেই ম্যাচেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কোনো দলের কাছে পরাজিত হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ওই ম্যাচের পর কেটে গেছে আট মাস। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে পাওয়া সেই জয় এখনো জাপান দলের আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস। আসন্ন রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচের আগে জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু সেই আত্মবিশ্বাসের কথাই স্পষ্টভাবে জানালেন। তার লক্ষ্য, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়া।
ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত নকআউট পর্বের বাধা টপকাতে পারেনি এশিয়ার এই দলটি। তবে এবার সেই অতীত বদলে দেওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে মোরিয়াসুর শিষ্যরা।
তবে বড় ধাক্কা হিসেবে এই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না জাপানের অন্যতম তারকা তাকেফুসা কুবো। রিয়াল সোসিয়েদাদের এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হাঁটুর চোট থেকে এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর থেকেই তিনি বাইরে রয়েছেন। সম্প্রতি বল নিয়ে অনুশীলন শুরু করলেও ম্যাচ ফিট হতে না পারায় তাকে ব্রাজিলের বিপক্ষে দলে রাখা হচ্ছে না।
কোচ মোরিয়াসু জানিয়েছেন, “কুবো এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। সে কিছু ব্যক্তিগত অনুশীলন করেছে, তবে ম্যাচ খেলার অবস্থায় নেই। আমরা চাই সে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক।”
আরেকটি দুশ্চিন্তার নাম অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার কো ইতাকুরা। সুইডেনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুর সমস্যায় পড়ে তিনি মাঠ ছাড়েন। যদিও গুরুতর ইনজুরি ধরা পড়েনি, তবুও সতর্কতার কারণে তাকে অনুশীলনে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। ফলে ব্রাজিল ম্যাচে তার খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তবুও গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে ছাড়াই আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়ছে না জাপান শিবিরে। কোচ মোরিয়াসু বিশ্বাস করেন, তার দল ব্রাজিলকে সম্মান করবে, তবে ভয় পাবে না।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করব, তবে আমাদের বিশ্বাস আছে আমরা জিততে পারি। গত বছর যেমন প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়েছিলাম, সেই আত্মবিশ্বাস এখনো আমাদের আছে। যদিও বর্তমান দুই দল আগের মতো নয়।”
তার মতে, বিশ্বকাপে এখন থেকেই আসল লড়াই শুরু। “আমাদের সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ। জিততে হলে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে হবে। আমরা দেখাতে চাই, এই দল কতটা উন্নতি করেছে। ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কিন্তু আমরা তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত,” যোগ করেন তিনি।
বিশ্বকাপে এটি জাপানের পঞ্চমবারের মতো গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে ওঠা। তবে আগের চারবারই প্রথম নকআউট ম্যাচে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এবার ব্রাজিলকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়তে পারবে জাপান।
মোরিয়াসু আরও বলেন, “আমরা আমাদের ফুটবল দর্শন বদলাব না। এটাই আমাদের পরিচয় এবং গর্ব। অনেকে মনে করে আমরা শুধু ভালো খেলি, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি এই বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্যও আমাদের আছে।”
কুবো না থাকলেও দাইচি কামাদা, আয়াসে উয়েদা, কাওরু মিতোমা এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর ভর করেই ব্রাজিলকে চমকে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে জাপান। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা